১)এটা তোর তটভূমি,
এখানেই নোঙর ফেলেছি আমি,
কাছে আমার তোর জলরাশি,
পেছনে আমার বিপুল জনস্রোত,
দূরে এক বৃক্ষহীন মরুভূমি,
তার শুষ্ক, তৃষ্ণার্ত বালি,
তোর বুকের রক্ত শোষে,
তুই নিষ্পাপ, নিশ্চুপ, নিরুত্তর,
আমি তবু পাষাণ তো নয়,
তুই আমার প্রাণ,
তোর শিরার রক্তধারা
আমার বেঁচে থাকার সাক্ষী,
ঐ বিশাল মরুর সাথে
ক্ষমতা নেই লড়ার,
তার প্রতিটি বালুকণা
আমার অক্ষমতা দেখে হাসে।
২)হাঁটলাম দীর্ঘ পথ,
এলাম মরুর কাছে,
বুক জুড়ে তার সে
এক অন্তহীন তৃষ্ণা,
মনজুড়ে শুধু মিথ্যে অভিনয়,
পদ্য সেখানে অর্থহীন,
আর গদ্য আত্মঘাতী,
সে এক অপূর্ব ভয়ঙ্কর দৃশ্যপট,
হলুদ বালি যেন,
সূর্যের প্রাণশোষী তাপে উদ্দীপ্ত,
৩)হে শিল্পী, এ কেমন সৃষ্টি?
সুন্দর তবু ভয়ঙ্কর,
কণ্টকবৃক্ষ এখানে জীবিত,
তবু মানুষ কেন জর্জরিত?
সময়ের চাপে ওরা প্রতিবন্ধী,
তবু শিকড় ওদের শক্ত,
ধরিত্রীর বুকের প্রতিটি জলবিন্দু,
ওদের কাছে অমূল্য রত্ন,
হয়তো ওরা কাঁদে,
কেউ শুনতে পায়না ওদের আর্তনাদ,
ওরা একাকী নয় তো বটেই,
মৃত্যু ওদের খেলার সাথী।
৪)সহসা, এ কি আঁধি?
নাকি তৃষ্ণার্ত খুনি?
দাপিয়ে উড়িয়ে ছড়িয়ে
দিয়ে যাবে বুকের রক্ত!
সে কি নীলকন্ঠ?
তবে তার জটায় কেন নেই চন্দ্র?
আছে কেবল ঘৃণ্য মৃত্যুজাল,
কোটি কোটি বালি উড়িয়ে,
ছুটে আসে দানবের মতো,
পরোয়া করে না কোন বাধার,
পারে সে গিলতে এই বিশ্ব,
তবে এই কি যবনিকা?





