পঞ্চানন দাস ওরফে পাঁচু। গ্রামের সবাই এক ডাকে তাকে চেনে। নাহ্, কোন আহামরি সেলেব্রিটি নয় সে। গ্রামের বড়ো বটগাছটার নীচে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান আছে তার। সকাল-সন্ধ্যে নানান মানুষের ভিড় লেগেই থাকতো। নেপোর ছাগলের অপঘাতে মৃত্যু থেকে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের অকর্মণ্যতা সবকিছুই দোকানটার বাইরের কাঠের বেঞ্চগুলোর ওপরে বসে থাকা গ্রাহকদের নিত্য আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও সর্বোপরি সততার জন্য সে খুব জনপ্রিয় ছিল।
পাঁচু রা চার ভাই, দুই বোন। শৈশবে বাবার মৃত্যু ঘটলে বড় ছেলে হওয়ার সুবাদে সমগ্র সংসারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। এর ফলে লেখাপড়া বেশীদূর করা হয়ে ওঠেনি। ওর খুব ইচ্ছে ছিলো লেখাপড়া করার। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ মা ও ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব নিতে তাকে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতেই হয়। মাত্র এগারো বছর বয়সে মায়ের জমানো টাকাগুলো দিয়ে একটি চায়ের দোকান খোলে। মা বলেছিলেন, ‘দ্যাখ পাঁচু, জেবনে ট্যাকা তো অনেকে কামায়। সৎ কয়জন হয় ক ত! সততা বিসজ্জন দিবি নে কখনো।
মায়ের কথাগুলোই পাথেয় করে পাঁচু। কঠিন পরিশ্রম করে ব্যাবসাটাকে দাঁড় করিয়ে ভাইদের লেখাপড়া করায় এবং বোনেদের বিয়ে-থা দেয়। নিজেও বিয়ে করে। সাতবছর বয়সী মেয়ে, স্ত্রী, মা ও ভায়েদের নিয়ে তার এক সুখের সংসার ছিল।
আচমকা একদিন ঐ পিশাচগুলো হানা দিলো। তছনছ হয়ে গেলো সবকিছু।
Month: জুন 2015
দ্রষ্টব্য ভূমিকা
‘বৃত্তান্ত’ ব্লগে পাঠকদের উষ্ণ স্বাগতম জানাই। এই ব্লগে বিভিন্ন বাংলা ছোটগল্প, কবিতা ও উচ্চমানের ফটোগ্রাফি প্রকাশিত হয়। যদি আমাদের পোস্টগুলি আপনার ভালো না লাগে তবে দয়াপূর্ব্বক এড়িয়ে যান। যদি পোস্টগুলি আপনার মন ছুঁয়ে থাকে তবে পোস্টের শেষে নিজের মতামত নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করুন। তা ভবিষ্যতের পোস্টগুলির গুণমান বাড়াতে সাহায্য করবে।
সুতরাং, আমাদের পাশে থাকুন। ভালোবাসুন। শেয়ার করুন।
একগুচ্ছ আন্তরিক ধন্যবাদ॥