– আসতে পারি?
– আরে, মিঃ ব্যানার্জি যে, আসুন…আসুন। প্লিজ হ্যাভ আ সিট্।
– থ্যাঙ্ক ইউ।
– বলুন, হোয়াটস্ দ্য ব্লাডি ম্যাটার?
– আজ্ঞে ডাক্তারবাবু, কাল রাত্রে এক মারাত্মক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখলাম।
– ওঃ, সেটা নিয়েই ভয়ে সিঁটকে আছেন? কাম অন, মিঃ ব্যানার্জি, ড্রিম ইজ ড্রিম, নট্ রিয়্যালিটি। ওইসব ঝেড়ে ফেলে দিন। রাত গ্যায়ি, বাত গ্যায়ি। সিম্পল!
– না ডাক্তারবাবু, ভয়ের টয়ের ব্যাপার নয়! বরঞ্চ স্বপ্নটা দেখার সময় দারুন এনজয় করছিলাম। ভাঙতেই ভয় করছে।
– ঠিক বুঝলাম না। প্লিজ এলাবোরেট।
– বলছি, বলছি। স্বপ্নে দেখলাম আমার স্ত্রী মারা গেছেন। আমি ঘরের কোণায় কোণায় শান্তিময় পরিবেশ উপভোগ করছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, বিকেলবেলায় পাড়ার ডেঁপোগুলোর সাথে ক্রিকেট খেলছি।
– এতোকিছু একই সঙ্গে করছেন? হাইলি মিস্টিরিয়াস!
– আজ্ঞে স্বপ্নের কি আর অতো মাথামুন্ডু থাকে? তবে যাই করি, মোদ্দা কথা এই, জব্বর আনন্দে কাটাচ্ছিলাম। কোনও প্রশ্ন নেই, কোন জবাব নেই, কোন ভয় নেই। জাস্ট লিভিং দ্য লাইফ্।
– তো, সমস্যাটা কোথায়?
– আচমকা ঘুম ভাঙলো স্ত্রীর চেঁচামেচি শুনে। বাড়ীতে আজ কাজের লোক কামাই করেছে তাই তার যত ডিপ্রেশন সব আমার ওপর ঝেড়ে আমার ঘুম ভাঙালো। কাকভোরে উঠে একগাদা বাসনপত্র মাজতে হলো। রিয়েলি টু মাচ্ ইরিটেটিং! আর এই ঘটনার পর থেকে চারদিন কেটে গেছে। এই চারদিন রাত্রিবেলা একটুও ঘুমোতে পারিনি। চোখদুটো বুজেলই সেই হিড়িম্বামার্কা মুখ ভেসে উঠছে। প্লিজ কিছু একটা সল্যুশন দিন।
– হুম্! কম্পলিকেটেড! ঘুমের ওষুধ নিয়ে যান।
– ওসব ট্রাই করে ফেলেছি। অলটারনেটিভ কিছু থাকলে বলুন।
– আছে তো! কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ দিচ্ছি কয়েকটা, আপনার স্ত্রীর ডিনারের ডিশে মিশিয়ে দিন। সকাল আটটার আগে ঘুম ভাঙার কোন চান্স-ই নেই। কয়েকদিন এইভাবে চালান। ভোরবেলা স্ত্রীর চেঁচামেচি কয়েকদিন না শুনলে আপনার ভয়টাও কেটে যাবে। তবে ঐ কয়েকদিন আপনাকে অফিস ক্যান্টিনে খেয়ে চালাতে হবে। পারবেন তো?
– বিলক্ষণ! দারুন আইডিয়া দিলেন মশাই। ফ্যান্টাস্টিক! আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেই! রিএলি, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ!
– থ্যাঙ্ক ইউ-র প্রয়োজন নেই। ফিজ্ টা দিলেই হবে। হিঃ হিঃ!
– শিওর!
