Month: অক্টোবর 2015

বধ-অভ্যেস

durga

– দিস ইজ রিডিক্যিউলাস!
– হোয়াট হ্যাপেন্ড মা?
– তোকে কত্তোবার বলেছি না, তোর ঐ ষাঁড়ের মতো শিংগুলো আমার এক্কেবারে সহ্য হয় না! তবুও প্রতিবছর ঐ শিংগুলো নিয়েই ত্রিশুলের আঘাত খেতে আসিস।
– মা, আমি তো মহিষাসুর। মহিষের মতো শিং তো থাকবেই। এটা বাদ দেই কিভাবে বলুন তো! লুক টাই চেঞ্জ হয়ে যাবে। অডিয়েন্স যদি চিনতে না পারে!
– ওঃ, অডিয়েন্স তোর কাছে প্রায়রিটি পায়, আর আমি? তুই জানিস, তোর ঐ পাথরের মতো শিংগুলোতে ঠোক্কোর খেয়ে আমার কত্তোগুলো ত্রিশূলের দফারফা হয়ে গেছে? নতুন পোক্ত ত্রিশূল পাওয়াও দুষ্কর ব্যাপার! ভাব তো, ত্রিশূল ছাড়া আমার লুকের কি হবে?
– কিন্তু মা…
– কোনও কিন্তু নয়…আর একটা কথা মনে রাখ, ক্রিমিনাল মাইন্ডের জন্যে মাথায় জিলিপির প্যাঁচ থাকলেই চলে, ঘটা করে ভুসোকালি মেখে শিং-টিং লাগিয়ে আবির্ভূত না হলেও চলবে।
– ওকে মা। তবে আমারও একটি আব্দার রয়েছে। দেখুন না, যদি এই উপকারটি করতে পারেন…
– বল্!
– মা, আপনার সিংহটাকে বলুন একটু সাফ্-সুতরো হতে। ব্যাটা বছর বছর ইয়া লম্বা নখ নিয়ে বুকে আঁচড় কাটে। এই তো গতবছর সেপটিক হয়ে গিয়েছিলো, কোনওমতে বেঁচে উঠেছি। প্রায় মরতেই বসেছিলাম।
– তোর এত্তো বড় সাহস? আমার সিংহের নামে কম্প্ল্যেন এনেছিস? তোকে এবার মেরেই ফেলবো।
– মা, প্লিজ শান্ত হোন। দেখুন, আমি পটল তুললে মন্ডপে আপনার পায়ের তলায় কে থাকবে? আপনার রেপুটেশনের কি হবে?
– হুম….এটাও তো ঠিক! আচ্ছা, আমি সিংহকে বলছি। তোর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ওকে?
– ওকে…থ্যাঙ্ক ইউ, মা। এবার তবে আসি, রাক্ষসদের মহড়া দিতে হবে।
– যা, আর হ্যাঁ, নো শিং!
– প্রমিস।

দুর্গতিনাশিনী

দুর্গতিনাশিনী

– গণু…গণু…কোথায় গেলি?
– বলো মা। আমি তো রান্নাঘরে যাইনি!
– আবার রান্নাঘরের ওপরের তাক্ থেকে নাড়ু বের করে টপাটপ্ চালিয়েছিস? সত্যি, তুই না…ইনকরিজিবল্!
– সরি মা! মামাবাড়ী যেতে হবে তো, ডিস্টেন্সও খুব একটা কম নয়, তাই ভাবছিলাম, ইয়ে…মানে…যাওয়ার পথে যদি ক্ষিদে-টিদে পায়…তাই…
– থাম্, তোর হচ্ছে! তোকে ডায়েট প্ল্যান দিচ্ছি, রেগুলার ফলো করবি। একটু কিছু যদি মিস্ করেছিস খবর পাই, তবে তোর মামাবাড়ী যাওয়া ক্যানসেল। ভুঁড়ি কমা! স্লিম হ!
– প্লিজ মা, বেশ তো ছিলাম!
– উঁ হুঁ, ওটি আর হচ্ছে না। আমাদের রেপুটেশন খারাপ হচ্ছে। মর্ত্যের মেয়েগুলো তোর দিকে আর ফিরেও তাকায় না। শুধু কার্ত্তিককে দেখে আর বলে, ‘ও মাই গড্, হি ইজ সো কুল’!
– মা, তুমি তো জানো আমি প্রথম থেকেই এমন। প্লিজ ছাড়ো না, আমায় শপিং-এ যেতে হবে। মামাবাড়ী বলে কথা! সাজুগুজু ছাড়া চলে?
– স্রেফ ধুতি পরে যাবে। কোনও শপিং-টপিং নয়, এখানে শপিং করবে, পরে মর্ত্যে গিয়েও বলবে, মা..মা..শপিং করবো! ওটি হচ্ছে না। এমনিতেও ফাইন্যান্সিয়াল সিচুয়েশন খুব একটা ভালো নয়। তার ওপর দু’বার শপিং! ইম্পসিবল্!
– ঠিক বলেছো মা। মন্ডপ, মূর্তি, থিম-টিম করে ওরা যা কামায়, তার অনেক বেশী টাকা কালেক্ট করে। বাড়তি টাকা সব হয় পেটায় নমোঃ নয়তো ইন্টারনেটায় নমোঃ। ব্যাটা সব কটা ধাপ্পাবাজ!
– তাই তো বলছি, নো শপিং, নো লাড্ডু, ওনলি ডায়েট প্ল্যান।
– মা…আবার..
– চুপ! যা বলছি তাই করো।
– ওকে। বাই দ্য ওয়ে, আমার ডায়েট প্ল্যান পালনের খুঁটিনাটি বিবরণ তোমায় দেবেটা কে শুনি?
– কে আবার, তোর ইঁদুর!

বং কালচার

  • ডু ইউ লাইক বাংলা কবিতা?
  • নট অল টাইপস। আই লাইক অনলি রবীন্দ্রনাথ। আর মশাই আপনার ঐ কবিতাগুলো একদম আনবিয়ারেবল। সব ন্যালাখ্যাপা টাইপ-এর কবিতা! কোন মিনিং নেই, কোন সেন্স নেই!
  • বলেন কি মশাই? আমার কবিতা মিনিংলেস?
  • নয় তো কি? ‘মেঘের ঠোঁটের আবদার’ এটা কোন ফ্রেজ হল নাকি? এর কোন অর্থ আছে কিনা আমার তো অন্ততঃ জানা নেই।
  • এগুলো অনেককিছু মিন করে মশাই! জীবনানান্দ পড়েননি কখনো?
  • তিনি আবার কিনি?
  • থাক! আপনি জীবনানান্দ পড়েননি অথচ বাংলা কবিতা যাজ করছেন? আপনার সাহস তো কম নয়!
  • সাহস? সেটা বরাবরই আমার একটু বেশি। তাছাড়া, আমি স্বাধীন ভারতবর্ষের নাগরিক। আমারও বাক স্বাধীনতা আছে। সেটা আপনি ছিনিয়ে নেবেন বললে আমি দেবোই বা কেন?
  • আপনি তো মশাই দারুন খুছুটে স্বভাবের! আপনি থাকুন আপনার রবীন্দ্রনাথ নিয়ে। যত্ত সব আনকালচারড বাঙালী!
  • দেখুন, আমি নিয়মিত কবিতা পড়ি, গোগ্রাসে রসগোল্লা গিলি, পুজোতে পাঞ্জাবী পরে ধুনুচি নাচ নাচি। কালচার-এর আর কি অভাব দেখতে পেলেন?
  • কিছু না। আপনার স্টপেজ এসে গেছে।
  • ওহ! আসি। কাল আবার দেখা হবে।
  • বিলক্ষণ!