Month: নভেম্বর 2015

ট্রিগার

– চ্যাটার্জীবাবুর ব্যাপারটায় কি প্রোগ্রেস?

– স্যর, অলমোস্ট কম্প্লিট। ড্রাগ রোজই দিচ্ছি। কড়া ডোজের। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই গুড নিউজ পেয়ে যাবেন।

– গ্রেট। মিসেস্ চ্যাটার্জীর সাথে কয়েকসপ্তাহ কন্টাক্টই করা যাচ্ছে না। ওনার সাথে দেখা করে পেমেন্টগুলো আদায় করে নেবে। আর কোনও ফার্দার প্রোগ্রেস হলে নিশ্চয়ই জানাবে।

– স্যর, অভয় দিলে একটি প্রশ্ন করতে পারি?

– করো না।

– স্যর, মিঃ চ্যাটার্জীর মার্ডারটা গুলি অথবা ছুরি দিয়েও তো করা যেতে পারতো। খামোখা এই ড্রাগের পথটার কারণ কি?

– মিসেস্ চ্যাটার্জীর রক্তে একটু প্রবলেম আছে। রক্ত দেখলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। তাই কন্ট্রাক্টটা দেওয়ার সময়ই বলেছিলেন যে উইদআউট ব্লাড কাজটি সারতে হবে। এছাড়া একটু একটু করে মৃত্যু দেওয়ারও রিকোয়ারমেন্ট ছিলো। সো, দিস ইজ দ্য বেস্ট ওয়ে।

– ওহ্…বুঝলাম স্যর। আপনার বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়। কিন্তু কি লাভ বলুন, আপনার অবর্তমানে আপনার বুদ্ধিই বা আর কোন কাজে লাগবে?

– মানে? ঠিক বুঝলাম না…একি…পিস্তল বের করছো কেন?….তুমি আমায় মারবে?….আমি তোমার বস্…

– শাট্ ইয়োর ব্লাডি মাউথ আপ্! একদম মুখ কচকাবেন না।

– কিন্তু তুমি আমায় মারবে কেন?

– গুড কোশ্চেন। জানেন তো, আমি কোনওদিন ছুরি-কাঁচিই ধরিনি। বায়োলোজিতে প্র্যাকটিক্যাল করতাম না। আপনার দৌলতেই আমাকে আজ পিস্তল, ইঞ্জেকশন্ এইসব ধরতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমিই ড্রাগস্ দেই। কড়া ডোজের। তবে, মিসেস্ ব্যানার্জীকে। চমকে গেলেন তো?

– তুমি…মানে…

– ঈশ্বরের খেলাও দেখুন, আমার প্রথম কেসটা তেই আপনি আমায় মিঃ ব্যানার্জীকে খুন করার সুপারি দিলেন। সত্যিই আপনার বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারা যায় না।

– মিসেস…ব্যানার্জী…তো..

– হুম..মিসেস্ ব্যানার্জী আর কয়েকদিনের মধ্যেই…ফুঃ….

– কিন্তু তুমি কে?

– বুঝতে পারলেন না তো, আমিই মিঃ চ্যাটার্জী।

(ট্রিগার)

অ্যান্টিক্

– এটা কি, ছোটকা?
– ডোন্ট টাচ ইট্। এটা অ্যাণ্টিক। মুঘল আমলের এক ইন্টেলিজেন্ট বাবুর্চির সিক্রেট মশলার সিক্রেট বাক্স এটা।
– ঢপ দিওনা, ছোটকা। হযবরল-র একটা লিমিট আছে।
– এই দ্যাখ, পৈতে, ভরদ্বাজ গোত্র, নিরামিশাষি, রোজ সকালে একশো আট বার গায়ত্রী জপ করি। খাঁটি ব্রাহ্মণ সন্তান। আমি মিথ্যে বলি না।
– কিন্তু, মানে…আমি..এখনও..ঠিক..বিশ্বাস….ছাড়ো, কতো পড়লো?
– নিলামের ফার্স্ট-ডে তেই দেড় লাখ দিয়ে কিনলাম।
– এইটুকু ছারপোকা ধরার বাক্সের দাম দেড় লাখ? আর তুমি কিনে নিলে? মানে…টাকাপয়সার এমন অপব্যবহার…ইয়ে..
– হুঃ…ওরে, ম্যাথ্ অনার্স…তুই কি বুঝবি এইসব ভিন্টেজ রত্নের মূল্য? সারাজীবন সুদকষা, সিঁড়িভাঙা এইসব করেই কাটিয়ে দিলি!
– না…মানে…ইয়ে…ক্যালকুলাসও করেছি….যাই হোক, আমার জ্যামিতি বাক্সটা নিলাম করবো ভাবছি। সাইজে কিন্তু ওই কৌটোটার প্রায় দেড়গুণ! দু’লাখ দেবে তো?
– সারকাজম্ হচ্ছে? তাছাড়া তুই বা কোন্ কেশবচন্দ্র নাগ, যে তোর জ্যামিতি বাক্স নিলাম হবে?
– আন্ডারএস্টিমেট করছো তো? তোমার দেড় লাখের কৌটোর ঘাড় মটকাচ্ছি দাঁড়াও!
– ওরে না…না…শোন…হাত দিসনা…খুলিস না…যাঃ…
– (কৌটো খুলে গন্ধ শুঁকে) ও ছোটকা, এ তো নস্যির ডিবে! দ্যাখো, দাদুর কাছে যেমন আছে তেমনই গন্ধ!
– (অনেকক্ষণ গন্ধ নিয়ে) হ্যাঁ তো…আমাকে ঠকালো…এত্তো বড়ো…আমার দেড় লাখ..
– তোমারই আগে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত ছিলো। মুঘল যুগে আশা করি নস্যি দিয়ে মোগলাই রান্না হতো না!
– তুই থামবি! এই মুহূর্তে ফচকেমি না মারলে নয়?
– না…মানে…দ্যাখো…আমার জ্যামিতি বাক্সটা কিনলে অন্ততঃ কম্পাস, স্কেল, পেন্সিল এসব তো পেতে!
– (খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর) আমার দেড়লাখ…
– মনে করো, ইঁদুরে খেয়েছে…থুড়ি…নস্যিতে..!(বিকট হাসি)