Month: ডিসেম্বর 2015

ব্রেক আপ অন্ থার্টিফার্স্ট

– থ্রো অফ্ রসগোল্লা।

– পাগল নাকি? ভয়াবহতাটা বুঝিস?

– খুব বুঝি। এটাই খানিক ডিফারেন্ট অ্যান্ড হেল্থ ফ্রেন্ডলি।

– তাই বলে রসগোল্লা? প্লিজ! ট্রাই সামথিং এল্স।

– দেন্, উমম্…কচুরি।

– ইম্পসিবল। এই সব জিভে জল আনা হ্যাবিটগুলো গিভ আপ করতে পারবো না বস্!

– বাট্, নিউ ইয়ার রিস্যোল্যুশন্-এ কিছু নতুন অভ্যেস শিরোধার্য করার সাথে কিছু গিভ আপ্ ও করতে হয়।

– তুই ফোর্স করলি বলেই তো নিলাম, ‘আরলি রাইজ’ অ্যান্ড ‘মর্নিং ওয়াক’! কিন্তু ‘রসগোল্লা’ আর ‘কচুরি’ গিভ আপ্? মাঠে মারা পড়ে যাবো রে!

– কিস্যু করার নেই। দিস ইজ দ্য নিয়ম।

– বলছি, আরও তো উপায় আছে, অল্টারনেটিভ?

– আছে বৈ কি! স্পটলাইটে লুঙ্গি পরে ডিস্কো ডান্স কর, কিংবা গড়ের মাঠে গড়াগড়ি খা।

– সারকাজম?

– ফুঃ! সারকাজম্ ব্যাপারটাই সারকাস্টিক। হনুমানদের মতো। কেউ বলে ভগবান, কেউ বলে হনুমান।

– ক্যাবলামার্কা যুক্তিতক্কো করিস না, প্লিজ।

– সরি, ‘ক্যাবলা’ নামে বাংলা অভিধানে কোনও শব্দ নেই।

– থামবি এবার?

– আগে ডিসাইড কর কি ছাড়বি?

– ইয়ে, প্র্যাক্টিক্যালি ভাবতে গেলে পুরোনো বছরটাকে তো এমনিতেই ছাড়ছি। আর তার সাথে পুরোনো ক্যালেন্ডার।

– আর?

– তোকে।

– সে তো কবেই ছেড়েছিস। চার বছর হয়ে গেলো।

– ইম্প্যাক্ট টাই আলাদা, তাই না! ফুচকার স্টলে লঙ্কার ইম্প্যাক্টের মতো। থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বরে ব্রেক আপ! ভাবা যায়!

– ইম্প্যাক্ট? অবশ্য, তাই বলতে পারিস।

– দুঃখ হয় নাকি?

– নাঃ! বছরগুলোই শুধু ঘোরে। ক্যালেন্ডার বদলায়। সময়ের মৃত্যু হয় না।

ডিসেম্বর কড়চা

১)

img1

গত কয়েকদিন বেশ জুবুথুবু হয়ে রয়েছেন কিঙ্করবাবু। পূর্ণদৈর্ঘ্যের নামটি হল কিঙ্কর সমাদ্দার। এমনিতেই নিতান্ত ঘোড়েল প্রকৃতির ব্যক্তিত্ব। নিজের ঘোড়েলপনার আধিক্য নিয়ে বেশ গর্ব করেই থাকেন।
দুর্ভাগ্যবশতঃ, একে শীতকাল, তার ওপর বছর-এর শেষ। ওদিকে গিন্নিও বাড়ীতে নেই। রোজ নিউজ চ্যানেলে ধুন্ধুমার বিতর্কানুষ্ঠান দেখে নিজের মধ্যে লুক্কায়িত রাজনীতিবিদের সন্ধান করছিলেন। আজ শীতটা যেন একটু বেশীই। কিঙ্করবাবু খানিক ব্যালকনিতে গিয়েই টের পেলেন। আলমারিটা খুলে লেপ বের করার তোড়জোড় করছেন, এমন সময় ঘটলো বিপত্তি। এক যুদ্ধজয়ী আনন্দ নিয়ে যখন আলমারি খুললেন, দেখলেন লেপগুলোর প্রায় সবকটা নিয়েই ইঁদুরে মহাভোজ করে ফেলেছে।
এমনিতেই তিনি শরদিন্দুবাবুর খুব ভক্ত। একটা সিগারেট ধরিয়ে রেলগাড়ির ইঞ্জিনের মতো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নিজের মধ্যের ব্যোমকেশনেস্ জাগিয়ে তুলে আলমারির নিচে টর্চ জ্বেলে দেখলেন, আলমারির নীচের দিকে কোণে জং ধরে কিছুটা স্থান ঠিক ইঁদুর প্রবেশের মতো করে ফাঁকা হয়ে রয়েছে।

২)

img2

অরণ্য ও আরশি। সদ্য বিবাহিত যুগলবন্দী। অরণ্য মস্ত এক টেলিকমিউনিকেশন কম্পানির একজিকিউটিভ। আরশি নিউট্রিশনিস্ট। তাই অরণ্যবাবুর ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, টিফিন, ডিনার সবকিছুই নিজের হাতে কঠোরভাবে সামলান। গতকাল আরশিদেবীর মা-বাবা এসেছিলেন দেখা করতে। সঙ্গে দু’প্যাকেট জয়নগরের মোয়া। জিভ থেকে আড়ালে-আবডালে দু’এক ফোঁটা জলপতন হলেও স্ত্রীর বকুনির ভয়ে মোয়া আস্বাদনের অদম্য সদিচ্ছা সটান প্রতিরোধ করলেন।
আজ সকাল। ফ্রিজের দ্বার খুলে আরশিদেবী দেখলেন, মোয়ার একটি প্যাকেট সঙ্গীহীন অবস্থায় বিষণ্ণ হয়ে বসে রয়েছে। আর একটি প্যাকেট অনুপস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই, সন্দেহ হলো অরণ্যবাবুর প্রতি। অরণ্যবাবু কোনওমতেই দোষ স্বীকার করতে রাজি নন। সারাদিন স্বামী-স্ত্রীর বাক্য বিনিময় বন্ধ।
পরের দিন বাড়ির বিশ্বস্ত বিহারী ভৃত্য রামলাল আরশিদেবীকে বললেন, ‘বিটিয়া, মোওয়া কামাল কা থা’। তড়াক করে মনে পড়লো আরশিদেবীর, প্যাকেটটা টেবিলের ওপরই ছিলো। উনিই রামলালকে বলেছিলেন, ‘রামলাল, টেবিল সাফ কর্ দো’।

৩)

img3

আমি নেহাতই গো-বেচারা গোছের। কারও সাতে-পাঁচে না থেকে জাগতিক যাবতীয় সমস্যা থেকে পিঠ বাঁচিয়ে চলি। কাগজে হাবিজাবি লেখালিখি ছাড়া আর বিশেষ কিছুই অপরাধ করি না। মাথার ওপর ফ্যান ঘোরা বন্ধ হলো নভেম্বরে। সটান ডিসেম্বর। এই সময় বিপর্যয় ক্যালেন্ডারের অনুকূল হলেও আমার কাছে অপ্রীতিকর।
অগত্যা লেপ, সোয়েটার, কম্বল ইত্যাদি ব্রহ্মাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত হলাম শীতদেবের সাথে যুদ্ধ করার জন্য। একজন অঙ্কের ছাত্র হওয়ার সুবাদে চলরাশি ও ধ্রুবকের স্পষ্ট ধারনা ছিলো। তাই সদর্পে সূর্যের সাথে আড়ি করলাম। ব্যাটা গ্রীষ্মকালে শত্রু হয়ে যায়, শীতকালে বন্ধু। অর্থাৎ, চলরাশি। নাহ্, এমন রঙ-পাল্টানো গিরগিটির সাথে কোনওমতেই বনিবনা রাখা চলবে না।
লেপ-তোশক দের সাথেই বন্ধুত্ব করলাম। পরিস্থিতি মাঝে-সাঝে সূয্যিমামার সাথে দেখা করিয়ে দিলেও আমি বেপাড়ার মামার দিকে পিঠ ফিরে দাঁড়াই। গায়ে স্বস্তি হয়, ওদিকে শত্রুতাও রক্ষা হয়।

(সমাপ্ত)
(চিত্র সৌজন্যে- ইন্টারনেট)

সোয়েটার

– চলবে?

– নো, থ্যাঙ্কস্! আই ডোন্ট স্মোক।

– আরে নিন্, নিন্। ঠকঠক করে কাঁপছেন তো! এখন আইডিয়ালিজম্-এ মারুন গুলি!

– আইডিয়ালিজম্ নয় মশাই! হ্যাবিচুয়েশন্।

– আর সোয়েটার? ওটাও কি হ্যাবিচুয়েশন্?

– কিছুটা। বাকিটা নেসেসিটি।

– হুঁ! এই বারো ডিগ্রি টেম্পারেচারে থ্রিল্ চান?

– যেমন?

– যেমন ধরুন, আপনার সোয়েটার আমি চুরি করলাম। আর আপনায় দু’পেগ ব্র্যান্ডি দিলাম।

– আমি খাঁটি ব্রাহ্মণ সন্তান, বুঝলেন? সিগ্রেট, মদ্যপান এসব কোনওদিন করিও নি এবং আই হেট দোজ পিপল্ হু ড্রিংক অর স্মোক। দ্যাটস্ অল।

– অর্থাৎ, হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ দেব, তবু মদ ছোঁব না?

– এক্স্যাক্টলি।

– সোয়েটার আর ব্যান্ডির পেগের মধ্যে ডিফারেন্স কি জানেন?

– কি? শুনি

– সোয়েটার কনটেইন্স অ্যান্ড ব্র্যান্ডি নিডস্ আ কনটেইনার। দ্যাটস্ অল। এক্সসেপ্ট ইট, দুটোর উপকারিতা প্রায় একই।

– তা হোক্, তবু ঐতিহ্য খোয়াচ্ছি না।

– হুঁ! টিপিক্যাল বঙ্গসন্তান! তা ঐতিহ্য শো অফ্ করানোর যোগ্যতা তো চাদরেরও রয়েছে। হঠাৎ সোয়েটার দিয়ে ঐতিহ্যের বড়াই করার এতো ঝোঁক?
ওটা তো বিলিতি আমদানি!

– চাদরের কোন ক্লাস নেই মশাই। এছাড়া মেইনটেইন করা খুব টাফ্। তুলনায়, সোয়েটার ইজ মোর কম্ফর্টেবল অ্যান্ড ওয়ার্ম। আর, চাদরের হেরিটেজ খুব উইক।

– বলেন কি? বঙ্কিমচন্দ্র থেকে বিদ্যাসাগর, ফেলুদা থেকে ব্যোমকেশ সকলেই চাদরকে প্রায়রিটি দেন।

– তখন সোয়েটার ছিলো না তাই!

– হাঃ হাঃ! ছিলো মশাই, ছিলো। বাঙালীরা পরতেন না। ওটিই ছিলো ঐতিহ্য।

– থামুন তো! আর ভাট বকে কাজ নেই। হেরিটেজ ইজ ইন সোয়েটার। অ্যান্ড, মোরওভার আমি ব্র্যান্ডি ছোঁব না, ছোঁব না।

– হাঃ হাঃ হাঃ! সোয়েটার, ব্র্যান্ডি দুটোই ফিরিঙ্গিদের আমদানি, বুঝলেন মশাই?

রিভেঞ্জ

Blood

– এক্সাইটেড?

– প্রব্যাব্লি ইয়েস।

– এনিথিং ফর রিফ্রেশমেন্ট?

– ইয়েস, ব্লাড। ফ্রেশ, ইনোসেন্ট ব্লাড। অ্যান্ড আ লট্ অফ উন্ডস্।

– কুল। এতো উত্তেজিত হবেন না। প্রিপারেশন সব ঠিকঠাক হয়েছে তো?

– অল্ সেট, লর্ড। চোরাই গাড়ি, ফুয়েল লোডেড্, টাফ এক্সটিরিয়র। মানুষ খুনের পক্ষে এক্কেবারে আদর্শ।

– গুড্। কোনও অনুশোচনা হবে না?

– নট অ্যাট অল। তেরো বছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। টাইম ফর অ্যা ন্যুড রিভেঞ্জ।

– মদ্যপান?

– ওটাও কি নেসেসারি?

– দেখুন, রিভেঞ্জটা যখন নিচ্ছেন তখন রিভেঞ্জের মতোই নিন। সিম্পলি ইন দ্য সেম ম্যানার।

– তাই হবে।

– কাজটা কখন সারবেন?

– আজই। রাত আটটায় ব্যান্দ্রায় শ্যুট আছে। ওখানেই সবার সামনে খুন করবো। গাড়িটা পেলেও আমায় পাবে না। নো ট্রেস অ্যাট অল।

– গ্রেট প্ল্যান। গো অ্যাহেড। সকলকে আট অঙ্কের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের অন্তঃসারশূণ্যতা বুঝিয়ে দিন। শো হিম দ্য ডিফারেন্স বিটুইন মানি অ্যান্ড লাইফ। প্রচন্ড যন্ত্রণায় কয়েক মুহূর্তের জন্য যখন কাতরাবে তখন ওর শরীরের রক্তও ওকে ঘেন্না করবে। হাইরাইজের ফ্ল্যাট, ভল্টবন্দী টাকা, চকচকে মার্সিডিস এসবের তখন কোনও ভ্যালুই থাকবে না।

– আমিও শান্তি পাবো, লর্ড। আমার পরিবারও কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হবে। নিজের চোখে দেখবো ওর হৃদস্পন্দন বাড়তে, কাতরাতে, রক্ত বইতে, অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন, অবশেষে হসপিটালের বেডে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে পাঠানো শেষ নিঃশ্বাস, দ্যাট লাস্ট ব্রেদ্!

– নিশ্চয়ই দেখবেন। আফটার অল আমিও তো চাইতাম এই রিট্রিবিউশন্ টা হোক। বেস্ট অফ্ লাক।

– থ্যাঙ্ক ইউ, লর্ড।

পাতুরি

– এনি লাস্ট মিনিট সাজেশন্?

– অ্যাবাউট হুইচ?

– অবভিয়াসলি পাতুরি।

– ভেটকিটা যেন আপনার হাতেই খুন হয়। মাছওয়ালার হাতে মৃত ভেটকির পাতুরি ঠিক জমে না। ডাজনট্ গো উইথ দ্য গরম ভাত।

– বলছেন?

– একদম। আর নুনের পরিমাণটা এক্কেবারে পারফেক্ট হওয়া চাই। একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু ছেলের বাড়ির কাছে মাথা হেঁট হয়ে যাবে। সো, বি কেয়ারফুল অ্যাবাউট নুন।

– ওকে, আই উইল টেক কেয়ার অফ ইট। কিন্তু, আপনি পাতুরির ব্যাপারে এতো পোজেসিভ কেন?

– পাতুরি আপনার ট্রাম্প কার্ড, মশায়। এমন এক খাঁটি বাঙালীর বাড়ীর খাঁটি ভেটকির খাঁটি পাতুরি খেয়ে ছেলের বাড়ীর লোকেরা আপনাদের জাস্ট ধন্য ধন্য করবে, তাই না।

– হক্ কথা। তাহলে ক্যাটারারদের ঠিকমতো বুঝিয়ে বলে দিতে হবে।

– হোয়াট? ক্যাটারার? হোয়াই?

– ম্…মানে বিয়েবাড়ীতে তো ক্যাটারার থাকতেই হবে। নয়তো, রান্নাবান্না হবে কেমন করে?

– তা বলছি না। ক্যাটারার থাক। বাট্, নো আপোস উইথ পাতুরি। ওটা বাড়ীর কেউই করুন। বয়জ্যেষ্ঠ কেউ, ব্যাডলি এক্সপেরিয়েন্স্ড অ্যাবাউট ইট্।

– দেন্, মা ওটা করুন। মা পাতুরি-টাতুরি খুব ভালো পারেন। আগে গ্রামের বাড়ীতে খুব হতো। তখন হাত চেটে পুটে খেতাম। সি ইজ বেস্ট।

– ওকে। বেটার। বাট্, ওয়ান রিকোয়েস্ট।

– প্লিজ, বলুন।

– ভেটকি আমার থেকেই কিনুন। উৎকৃষ্ট কোয়ালিটি প্রোডাক্ট। ইন হোলসেল রেট। স্মুদলি অ্যাফর্ডেবল্।

– ওঃ..বুঝলাম…হুম্…ভেবে বলছি।

সিগ্রেট

– এক্সকিউজ মি!

– ইয়েস।

– সিগ্রেট হবে? দেশলাইতে আগুন ধরাবো।

– শিওর! এই নিন।

– আরে, আমি দেশলাই চাইনি। সিগ্রেট চেয়েছি। কানে কম শোনেন নাকি?

– আপনি মশাই পাগল নাকি? লোকে আগুন চায় আপনি আস্ত সিগ্রেট চাইছেন! মর্নিং ওয়াক করতে কেউ সিগ্রেট নিয়ে আসে নাকি?

– আপনি তবে দেশলাই বাক্স সাথে করে এনেছেন কেন? জামাকাপড়ে আগুন ধরাতে?

– আজব ঝগড়ুটে পাবলিক তো! পাঞ্জাবির পকেটে কাল থেকেই ছিলো। আর বের করা হয়নি, তাই থেকে গেছে। যাই হোক তাতে আপনার কি?

– অনেক কিছু। আপনার মতো এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ আমি অনেক দেখেছি। তবে তাদের কারও সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করতে পারিনি। তবে আজ করবো। আপনি যে রোজ রাত্তিরে বাড়ী ফেরার সময় ময়দানের পাশের ঐ ফাঁকা জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে প্রাণভরে সিগ্রেট টানেন, তারপর ফেলে দেন, আপনি জানেন, আরও তিন-চতুর্থাংশ তখনও বাকি থাকে?

– তো? আমার সিগ্রেট আমি কতটুকু টানবো একান্ত আমার ব্যাপার। তুমি কোন হরিদাস পাল হে?

– পাল নয়, ঘোষ। চিনতে পারছেন?

– ত্-তুমি..মানে..আমার অফিসের হরিদাস?

– আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যর। আপনার মনে আছে?

– মনে থাকবেনা আবার! তোমায় আমিই তো রিক্রুট করেছিলাম।

– তাড়িয়েছিলেনও আপনিই স্যর। চেইনড্ স্মোকিং-এর জন্যে। আর আজ দেখুন, আপনি নিজেই দিনরাত স্মোক করেন।

– কি আর করবো বলো, বাড়ির, অফিসের, ছেলে-মেয়েদের টেনশন, চাপ, এইসব থেকে জাস্ট কিছুটা চিলড্ হওয়ার জন্যে…আর তোমার খবর বলো। তোমায় তো চিনতেই পারছিলাম না। বুড়ো হয়ে গেছো।

– আপনিও তো অ্যাবভ্ ফিফ্টি। আর আমায় বুড়ো বলছেন?

– ওঃ..সরি সরি। তারপর, আজকাল কি করা হয়?

– ছেলেটা রিসার্চ স্কলার। ওর ইনকামেই মোটামুটি আনন্দে চলে যায়।

– তুমি খুব লাকি, হরি। তোমার ছেলে তোমায় দেখে। আমার মেয়েটার বিয়ে দিয়েছি, ছেলেটা আমেরিকা গেছে, মাসে দু-একবার ফোন করে। আমরা বুড়ো-বুড়ি এখানে একাই পড়ে রয়েছি। এখনও অফিস আমার সামলাতে হচ্ছে।

– স্যর, এই বয়সে বেশী ধকল নেবেন না। আসি এবার, স্যর।

– হ্যাঁ, ভালো থেকো, এসো। কোনও সাহায্য লাগলে বোলো।

– লাগবে না স্যর, ভালোই আছি।

– ওকে..ইয়ে..শোনো, তুমি প্রথমে আমায় সিগ্রেটের ব্যাপারটা দিয়ে ধমক দিলে কেন?

– আপনার অফিস থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আমি কুড়ি বছর সিগ্রেট কারখানায় কাজ করেছি। নিজের হাতে বানাতাম তো! তাই কেউ নষ্ট করলে খুব খারাপ লাগতো। অনেকে ঐ টুকু সিগ্রেটের জন্য পাগল হয়ে থাকে বছরের পর বছর! অথচ শুধু বানাতেই হয়, কেনার টাকা থাকে না..তাই..আসছি স্যর..