Month: জানুয়ারি 2016

সদুপদেশ

conversation_002

– তোর দ্বারা কিস্যু হলো নাহ্!

– কেন ছোটকা? এই তো সদ্য চাকরি পেলাম। পাঁচ অঙ্কের স্যালারি। নেহাত খারাপ নয়।

– চাকরি পেলেই সব হয়ে গেলো? গাধার মতো খাটার একখানা লাইসেন্স পেলি, এই যা!

– একটু খোলসা করে বলবে, কি বলতে চাইছো?

– ফ্ল্যাশব্যাকে যা। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? একটা ছোট্ট মিষ্টি ছেলে, ছোটকার সাথে খেলছে, পার্কে যাচ্ছে, ছোটকার থেকে টাকা নিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? আবছা?

– বুঝলাম ছোটকা। কিন্তু, পয়েন্ট টা কি?

– পয়েন্ট টা হচ্ছে এই যে, এই রিসেশনের যুগে ইঁদুরদৌড়ে অংশগ্রহন করে একখানা মাথাগোঁজা চাকরি জুটিয়ে নিলেই তোর জীবন সম্পূর্ণ নয়। তুই জানিস, তোর লাইফে কোন ইয়ে নেই!

– এই ‘ইয়ে’ টা কি, শুনি?

– এক্সাইটমেন্ট, জয়নেস্, ক্রিয়েটিভিটি এইসব ইয়ে। মানে, খানিকটা লাগামছাড়ানেস্। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস-আউট করার পর তো কোনোদিন তোকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেও দেখলাম না! আর, প্রেম-টেম ও তো করিস না। এমন চেপে-চুপে বেঁচে থাকলে কি আর তাকে মানুষ বলা চলে? নো এক্সাইটমেন্ট, নো থ্রিল!

– হুম্….তোমার কাছে সবচেয়ে সিম্পল থ্রিল কি?

– থ্রিল তো অনেক প্রকারেরই হতে পারে। যেমন ধর, রাত্তিরবেলা সকলে ঘুমিয়ে রয়েছে। সেই সুযোগে তুই ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম নিয়ে পুরোটা সাবাড় করে দিলি। সকালে কেউ আইসক্রিমের খোঁজ করলে পরিপাটি করে সম্পূর্ণ ঘটনাটাকে অস্বীকার করে গেলি।

– এক মিনিট…এই আইসক্রিমের পরিবর্তে রসমালাই হলে কেমন হয়? মানে…বহুদিন অভ্যাস নেই তো, তাই আইসক্রিম ঠিক..মানে…জমবে না আর কি।

– রসমালাই? ওকে…বেটার অপশন্! কিম্বা জলভরা হলে কেমন হয়?

– টেম্পটিং!

– গ্রেট! কিম্বা পিওর রসগোল্লা!

– এক মিনিট, ছোটকা। আলোচনাটা ক্রমশ মিষ্টান্নের দিকে ইনক্লাইন্ড হচ্ছে। টপিক হারিয়ে ফেলছি আমরা।

– ওরে গাধা, এটাই তো প্রাইমারি লেভেল অফ লাগামছাড়ানেস্!

পার্ফেকশন্

man-thinking-drawing-thinking-man-very-catching-black-white-photo-illustration-featuring-white-marble-statue-concerned-upset-32482638

– পারফেক্শন বোঝেন?

– পলিউশন্ বুঝি। প্রতি দশ হাত অন্তর অন্তর আপনার মতো এঁচোড়ে পাকা পারফেক্শনিস্ট উঁকি মারে। টু হার্ড টু ট্যাকল আউট!

– আরে মশাই, টপিক চেঞ্জ করছেন কেন?

– উঁ হুঁ! টপিক চেঞ্জ করছি না। বরঞ্চ বলতে চাইছি যে, শুধু দু-চারটে হুলোমার্কা গপ্পো, কবিতা লিখলেই পারফেক্শনিস্ট হওয়া যায় না!

– তবে আমি পারফেক্শনিস্ট নই?

– এক্কেবারেই না! আপনার গল্প আর, কবিতাগুলোয় অ্যাবস্ট্র্যাকশন্ অনেক বেশী। ওই, মেগা সিরিয়ালের টি.আর.পি. র মতো। কাহিনী কিস্যু নেই, অথচ অডিয়েন্সের ছয়ালাপ। আর, অ্যাবস্ট্র্যাকশন্ এতো বেশী পরিমানে থাকলে ঠিক জমে না। মানে, পপুলারিটি থাকলেও পারফেক্শন এক্কেবারেই নেই।

– বলেন কি? রবীন্দ্রনাথ থেকে জীবনানন্দ, প্রায় সকলেই কবিতায় অ্যাবস্ট্রাকশন্ চালিয়ে এসেছেন। তাঁদের কবিতাকে আপনি অগ্রাহ্য করছেন?

– এই তো, চারিদিকে অশিক্ষা! ওনাদের কবিতাগুলো ইম্যাজিনেশন, নট্ অ্যাবস্ট্র্যাকশন।

– মানে? ইম্যাজিনেশন আর অ্যাবস্ট্র্যাকশনের ফারাক কোথায়? দুটো তো একই ব্যাপার।

– একই ব্যাপার? রাঙালু আর শাঁখালু একই জিনিস? বেসিক ডিফ্রেন্সও বোঝেন না?

– তবে আপনিই বলুন!

– হুঁ..তা তো বলবোই। সাহিত্যের এমন অপমান তো আর মুখ বুজে সহ্য করা যায় না! যাই হোক, দেখুন, ইম্যাজিনেশন খানিকটা থিঙ্কিং এবং খানিকটা রিয়্যালিটির জগাখিচুড়ি। বাট্, অ্যাবস্ট্র্যাকশন্ ইজ কপ্লিটলি আনরিয়্যাল। যার মধ্যে বাস্তবতার ছিঁটেফোঁটাও নেই। মানে, ভার্চুয়ালিটির এক্সট্রিম স্টেজ আর কি! তাই, অ্যাবস্ট্র্যাকশন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলে বিস্তর জ্ঞানগম্যি ও দক্ষতার দরকার হয়, যেগুলির অস্তিত্ব আপনার চড়ুইপাখি সাইজের দু’এক ফোঁটাও নেই।

– হুঁ..বুঝলাম।

– কি বুঝলেন?

– রবীন্দ্রনাথ ও সুকুমারের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝলাম।

(Illustration collected from- clipartpanda.com)

মধুরে-ন সমাপয়েৎ

thrill

– এত উদাসীন কেন? কি হয়েছে?

– মধ্যরাত্রি বিপর্যয়, অর্থাৎ, মিডনাইট ক্রাইসিস।

– উফ্, এই মাঝরাত্তিরে কি এমন বিপত্তি ঘটলো?

– শুধু বিপত্তি নয়, ম্যাক্রো সাইজের দ্বিধাও বলতে পারো।

– স্টপ হেঁয়ালি, প্লিজ! বলো না কি হয়েছে?

– যুদ্ধ!

– অ্যাঁ! চাঁদ এখন ফ্যালফ্যাল করে উঁকি মারছে, স্টেশন ফাঁকা, মোড়ের কুকুরগুলোর ভ্যানতাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পিন ড্রপ সাইলেন্ট নাইট! এখন তুমি কোন্ সিপাহী বিদ্রোহের পটভূমির কথা বলছো?

– সিপাহী বিদ্রোহ নয়, তবে মস্তিস্ক বিদ্রোহ বলতে পারো।

– অর্থাৎ?

– অর্থাৎ, ফ্রিজ খুলে দেখলাম আইসক্রিম রয়েছে আবার জলভরাও রয়েছে। বোথ আর ফ্রেশ এনাফ্। তাই কোনওভাবেই ডিসাইড্ করতে পারছি না কোনটা খাওয়া সমীচিন।

– মাঝরাত্তিরে জলভরা, আইসক্রিম? শরীর ঠিক আছে তো?

– অ্যাবসল্যুটলি ফাইন্। মাঝরাত্রে ঘুম ভেঙে উঠে আইসক্রিম খাওয়ার থ্রিলটা গ্র্যাব করতে চাইছিলাম। যুদ্ধটা বাধালো জলভরা।

– রিয়লি, ইউ নিড সাইকিয়াট্রিস্ট হেল্প। ফ্রিজ খুলে দেখো, না আইসক্রিম আছে, না জলভরা।

– হোয়াট!

– হুঁ! কাল সমু আইসক্রিমের পুরোটাই চেটে পুটে খেয়ে নিয়েছে। আর জলভরা, সে তো প্রায় মাসখানেক আনাই হয়নি!

– হলি ক্র্যাপ! এ কি তবে নিছক হ্যালুসিনেশন্? নাকি ইনোসেন্ট স্বপ্ন?

– ইনোসেন্ট? স্কুল পালানো বিচ্ছুরাও অমন এঁদোমার্কা স্বপ্ন দেখে না।

– স্বপ্নের আবার ক্লাস হয় নাকি?

– হয় বৈ কি!

– আর, স্বপ্নে হ্যালুসিনেশন্? সেটা পসিবল্?

– উঁ হুঁ! তা জানা নেই। তবে মাইন্ড পজিটিভ থাকলে স্বচ্ছন্দে সাফসুতরো স্বপ্ন দেখা যায়। আর, দিনরাত খাই-খাই করলে স্বপ্নেও আইসক্রিম, জলভরা, চকোলেট এইসমস্ত বস্তু দেখা দেবেন।

– ও, থ্যাঙ্কস্ আ লট্। চকোলেটের কথা তো মনেই ছিলো না। কালই এনেছিলাম। ফ্রিজে এখনও স্বমহিমায় উপবেশিত থাকা উচিত। আইসক্রিম, জলভরা না থাক্, চকোলেট ইজ্ টেস্টি এনাফ্ ফর্ মিডনাইট থ্রিল্।

– ওয়ান বাইট্ ফর মি টু!

– তুমিও?

– তোমার ‘হাফ্’ বলে কথা!