– তোর দ্বারা কিস্যু হলো নাহ্!
– কেন ছোটকা? এই তো সদ্য চাকরি পেলাম। পাঁচ অঙ্কের স্যালারি। নেহাত খারাপ নয়।
– চাকরি পেলেই সব হয়ে গেলো? গাধার মতো খাটার একখানা লাইসেন্স পেলি, এই যা!
– একটু খোলসা করে বলবে, কি বলতে চাইছো?
– ফ্ল্যাশব্যাকে যা। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? একটা ছোট্ট মিষ্টি ছেলে, ছোটকার সাথে খেলছে, পার্কে যাচ্ছে, ছোটকার থেকে টাকা নিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? আবছা?
– বুঝলাম ছোটকা। কিন্তু, পয়েন্ট টা কি?
– পয়েন্ট টা হচ্ছে এই যে, এই রিসেশনের যুগে ইঁদুরদৌড়ে অংশগ্রহন করে একখানা মাথাগোঁজা চাকরি জুটিয়ে নিলেই তোর জীবন সম্পূর্ণ নয়। তুই জানিস, তোর লাইফে কোন ইয়ে নেই!
– এই ‘ইয়ে’ টা কি, শুনি?
– এক্সাইটমেন্ট, জয়নেস্, ক্রিয়েটিভিটি এইসব ইয়ে। মানে, খানিকটা লাগামছাড়ানেস্। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস-আউট করার পর তো কোনোদিন তোকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেও দেখলাম না! আর, প্রেম-টেম ও তো করিস না। এমন চেপে-চুপে বেঁচে থাকলে কি আর তাকে মানুষ বলা চলে? নো এক্সাইটমেন্ট, নো থ্রিল!
– হুম্….তোমার কাছে সবচেয়ে সিম্পল থ্রিল কি?
– থ্রিল তো অনেক প্রকারেরই হতে পারে। যেমন ধর, রাত্তিরবেলা সকলে ঘুমিয়ে রয়েছে। সেই সুযোগে তুই ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম নিয়ে পুরোটা সাবাড় করে দিলি। সকালে কেউ আইসক্রিমের খোঁজ করলে পরিপাটি করে সম্পূর্ণ ঘটনাটাকে অস্বীকার করে গেলি।
– এক মিনিট…এই আইসক্রিমের পরিবর্তে রসমালাই হলে কেমন হয়? মানে…বহুদিন অভ্যাস নেই তো, তাই আইসক্রিম ঠিক..মানে…জমবে না আর কি।
– রসমালাই? ওকে…বেটার অপশন্! কিম্বা জলভরা হলে কেমন হয়?
– টেম্পটিং!
– গ্রেট! কিম্বা পিওর রসগোল্লা!
– এক মিনিট, ছোটকা। আলোচনাটা ক্রমশ মিষ্টান্নের দিকে ইনক্লাইন্ড হচ্ছে। টপিক হারিয়ে ফেলছি আমরা।
– ওরে গাধা, এটাই তো প্রাইমারি লেভেল অফ লাগামছাড়ানেস্!


