AbhinandanPahari

চা’ওয়ালা

02

মৃদু-মৃদু হাওয়া দিচ্ছে, সদ্য সিঙাড়ার গন্ধ, চায়ের গ্লাসের টুংটাং। বাপিদা’র দোকানের এই এক যাকে বলে ‘খাস বাত’। কাস্টোমার কখনও বোর হবে না। সারাক্ষন বাপিদা জ্ঞান ঝেড়েই চলেছে। কখনও বৌকে খুশি রাখার পদ্ধতি, কখনও দীপিকার বেশভূষা, কখনও বিরাটের কভার ড্রাইভ, আবার কখনও দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক-প্রত্নতাত্ত্বিক-ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে হাজারো টিপ্পনি, সব পাবেন বাপিদা’র থেকে। মানুষটি নিপাট ভদ্র। এত ভদ্র যে, এক লিটার দুধ দিয়ে একশোজন মানুষকে চা খাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চা নিয়ে কেউ কখনও অভিযোগ জানায়নি, রেকর্ড আছে।
আমার তো বেশ লাগে জায়গাটা। কেমন একটা লোকসভা- লোকসভা গোছের। প্রসূনদা বৌদির রান্না নিয়ে আলোচনা করছে, রবিনকাকা কোরাপশান নিয়ে বিদ্রোহী বাতেলা দিচ্ছে, বাপিদা স্পিকারের মতো সবকিছু সামাল দিচ্ছে, আর আমি বেচারা মনমোহন সিংয়ের মতো একসাইডে চুপচাপ বসে আছি। চারিদিক থেকে জ্ঞানের তীর এসে বিঁধছে। এমন তীরে আহত হতে ক‍ার না ভালো লাগে বলুন!
শুধু সমস্যা হয় বিলু এলে। বিলু আমাদের পাড়ায় থাকে। ভালো নাম কি যেন একটা, ইয়ে, আমারও মনে থাকে না। বিলুর বাবা এই চত্বরের একমাত্র ডাক্তার। ব্লাডপ্রেশার চেক থেকে অস্ত্রোপচার সব একাই পারেন। খাঁটি ট্যালেন্টেড মানুষ। বিলু এখন ইউনিভার্সিটি পাস আউট। সারাদিন উড়ে উড়ে বেড়িয়ে সন্ধ্যেবেলা বাপিদা’র দোকানে আসে মাঝে সাঝে। এসেই দুম্ করে এমন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে বসবে, যার উত্তর দেওয়ার সাধ্যি বাপিদা’র চৌদ্দ্য পুরুষের নেই। আর, আমার তো নেই ই।

সেদিন পূর্ণিমার সন্ধ্যেবেলা বিলু লেবু চায়ে টান দিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করলো,’আচ্ছা, এই যে তোরা চা খাস, ত‍াতে আবহাওয়া কতোটা ড্যামেজ হয় জানিস?’

আকস্মিক কসমিক সওয়াল! এর উত্তর জুত করে দিয়ে ফেলবো, নাহ্, এতোটা বুদ্ধিমান বা পাগল আমি নই।

প্রসূনদা একবার ড্যাব-ড্যাব করে বিলুর দিকে চেয়ে চশমাটা খুলে বললো,’চা, আর আবহাওয়া? মানে, পুরো চালতা আর সিমেন্টের মতো ব্যাপার। টকিং অ্যাবাউট চা, সে তো তুইও হুস-হুস শব্দ করে খাস, আর যদ্দূর আবহাওয়‍া সম্পর্কে জানি, তার পেছনে কাঠি করার জন্যে তো অন্য ঘটনা রয়েছে, ঐ যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং’।

05

-‘উঁ হুঁঃ, এখানেই তো হোঁচট খেলে তুমি। কসমোলজি বলছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ক্ষান্ত হয়েছে। কুমেরুর বরফ গলবে না, তুমি ভাসবে না।’

-‘ভাসবো না! ইয়ে, মানে, তবে যে খবরে, বইতে লেখা ছিলো!’

-‘স্রেফ ভাঁওতা। কখনও ভেবে দেখেছো, এই যে তুমি সারাদিনে তিরিশ খানা সিগারেট টেনে ধোঁয়া ওড়াও, সেটা কতো ক্ষতি করছে!’

-‘ঐ টুকুতে কিছু হয় নাকি?’

-‘এক্সাক্টলি। তেমনি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে পৃথিবী যে হারে গরম হচ্ছে, তাতে তুমি কেন, তোমার আগামী কুড়ি প্রজন্মও হেসে-খেলে টিকে যাবে।’

-‘তা হোক্। কিন্তু বললি না এখনও চ‍‍া কিভাবে দূষণ করছে?’

-‘ও তুমি বুঝবে না।’

-‘কি যে সব বলে!’

বাপিদা দোকানের ভেতর থেকে বলে উঠলো,’নাহ্! তোরা আর কেউ বড়ো হলি না। উল্টোপাল্টা কথাবার্তা সারাক্ষণ! ওদিকে দেখ্ আমার মতো চাওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলো! আমারও এবার একটা চেষ্টা করার দরকার অাছে। আর ভাল্লাগে না একদম এসব।’

বিলু ফিচ্ করে হেসে বললো,আগে লুঙ্গি সামলাতে শেখো, তারপর দেশ সামলাবে। কালই মিত্র বৌদির সামনে খুলে যাচ্ছিলো। অঘটন হতে বেশী সময় লাগে না। সাবধান হও।’

-‘পেছনে না লেগে এবার বিদেয় হ না বাপু। একটা সরকারি চাকরি জুটিয়ে বিয়ে-থা করে হিল্লে কর্। আর কদ্দিন শুধু আমাদের জ্ঞান দিবি?’

-‘সরকারি চাকরি? কে দেবে?’

04

-‘শুনলাম প্রাইমারির তো দশ লাখ রেট চলছে। কেন্দ্রের চাকরিও আছে। তোর কি টাকার অভাব? বাবাকে বল্ ডিসপেনসারিটা বেচে দিতে। পাক্কা একখানা চাকরি জুটে যাবে।’

-‘রক্ষে করো বাপিদা, ঐ যৌতুক আমার চাই না।’

-‘কেন? সমস্যা কী? আরে পুরো লাইফ সেট হয়ে যাবে। তারপর আনন্দ কর জীবনভর।’

-‘হ্যাঁ। এই আনন্দ লোকে নিতে যাচ্ছে বলেই তো চাকরির নিলাম হচ্ছে। সবাই দর লাগাচ্ছে। যার দর হাঁক বেশী, তার চাকরি।’

-মন্দ কী? এতো বছর তোকে খাওয়াবে, পরাবে, তোর ভরণপোষণ করবে, আর তুই তার আগে একটু খসাতে পারবি না!’

-‘না। পারবো না। এটাই তো সমস্যা। তুমি সুখ ভালোবাসো, নীতি নয়, স্রোত ভালোবাসো, সত্য নয়। তাই তুমি হাসিমুখে লাইনে দাঁড়িয়েছিলে ছ’মাস। বলতে পারো, তোমার টাকা তুমি নেবে তাতে চারঘন্টা লাইন কেন দিতে হবে তোমায়? চোর তো তুমি নও, আহম্মকও নও।’

-‘সে একটু মানিয়ে নিতে হয়, সবার ভালোর জন্যে।’

-‘তারপর? কি হলো? তোমার চারশো ঘন্টার ঘাম ঝরানো কালোটাকাওয়ালাদের চর্বি ঝরাতে পারলো কিনা জেনেছো?’

-‘নিশ্চয়ই হয়েছে। সবাই তো আর বোকা নয়!’

মুচকি হেসে বিলু বললো,’তোমারই বন্ধু তো ওমর। তাকে এপাড়ায় কেনো থাকতে দেওয়া হয়নি সেটা তুমি জানো না?
বাপিদা, উপেক্ষাটা কিন্তু সমাধান নয়। কিছুক্ষন আগেই বলছিল‍াম, চা দূষিত করছে আবহাওয়াকে, একটা চাওয়ালা করছে পুরো দেশটাকে।’

………..

বেশ অনেকদিন আর দেখা হয়নি বিলুর সাথে। শেষবার দেখা হয়েছিলো পুজোর পরে পরে। তখন জগতশুদ্ধু সামগ্রীর সাথে আধার লিঙ্ক করাচ্ছি। সেদিনও আমায় অনেক বাতেলা ঝেড়েছিলো। কিছু মাথার ওপর দিয়ে গিয়েছিলো,তবু মনে আছে।
এখন আর বিলুকে দেখা যায় ন‍া এ পাড়‍ায়।
শুনেছি এখন নিজে ব্যবসা করে। শেষ অবধি হার মানলো না ছেলেটা।।

 

 

Photo Courtesy- raghukamath.com

Q-ফেলু

collage_fotor

 

– খবরের কাগজের বক্তব্য কি আজ? রসালো কিছু আছে নাকি লালমোহন বাবু?
– কেন বলুন তো মশাই? কিছু আন্দাজ করছেন নাকি?
– না…মানে আজকাল সবই কমপ্লেক্স তো! তাই গাছের পাতা খসলেও হেডলাইন হতে বেশি সময় লাগে না।
– হুম…একখানা দারুন নাম মনে করালেন মশাই! নেক্সট গল্পটায় একটু হাস্যকর অ্যাপ্রোচ রাখছি। নামটা পারফেক্ট হবে। “হেডস্যরের হেডলাইন”! বাঃ…আপনি নিঃসন্দেহে জিনিয়াস!
– বলেন কি?! লোকে তো মানিকবাবুকে খিস্তি করছে! এইরকম অপদার্থ ক্যারেক্টার সৃষ্টি করার জন্যে!
– অ্যাঁ…ইয়ে…মানে…কবে…??? কে…??? কিভাবে…??
– জানেন না?

ও…আপনি তো আবার স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নেই! লালমোহন বাবু, মানুষ চাঁদে পৌঁছে গেলো, আর আপনি এখনও শুধু কাগজ, কলম আর হার্ডকপিতে আটকে রয়ে গেলেন!
– ওফ…লেগপুলিং বন্ধ করুন তো মশাই! টপিকে আসুন। সেই মহান ব্যক্তিটি কে?
– ঐ, একজন স্বনামধন্য বাংলা চিত্রপরিচালক। তিনি সন্দীপের লাস্ট ছবিটা দেখে আমায়, তপেশকে, এমনকি মানিকবাবুকেও খিস্তি করেছেন। আপনি বয়েঃজ্যেষ্ঠ। তাই আপনার সামনে খিস্তিগুলো বললাম না।
– হাইলি সাশপিশাস!!! কোনও রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন নাকি?
– আমি না পেলেও…মিডিয়া কোনও ষড়যন্ত্রের গন্ধ অবশ্যই পেয়েছে। ওদের নাক কুকুরের থেকেও বেশি সেনসিটিভ! আজকাল তো একটা মশা মরলেও ওরা শ্রবণশক্তি আর হস্তযুগলের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়।
– কিন্তু এই অপমান! মানে…বাঙালি কোনও প্রতিবাদ করলো না?
– করেছে…করছেও…তর্জনীর খোঁচায় চল্লিশ-বেয়াল্লিশ জনকে ট্যাগিয়ে প্রতিনিয়ত বিপ্লবী আন্দোলন চলছে ফেসবুকে, ট্যুইটারে।
– আর আপনার কি মতামত? মানে, আপনারই তো সম্মান ওষ্ঠাগত হওয়ার কথা!
– আমি কি আর আমি আছি, লালমোহন বাবু?! আমি জন্মেছিলাম ছিন্নপত্রে, এলাম বাইন্ডিং করা বইতে। তারপর রূপোলী পর্দা, তারপর সোনালী পর্দা…প্রতিনিয়ত অস্ত্রোপচার হয়ে চলেছে আমার ওপর। বাঙালি তো আজকাল ফেলু মিত্তির বলতে গোল্ডেন স্ক্রিন, সন্দীপ রায় আর সব্যসাচীকেই বোঝে। আমি কোথায়? তিনি তো ঐ পোস্টমর্টেম করা ফেলুকেই গালাগাল করেছেন। আমায় নয় তো!
– কথাটা সত্যি বটে! আচ্ছা আমরা কি পুরোটাই ভার্চুয়াল?!
– অনেকটাই…তবে পুরোটা নয়।
– পুরোটা নয় কেন?
– লালমোহন বাবু, এখনও বইমেলায় অনেকে খাবারের স্টলের বদলে বইয়ের স্টল প্রেফার করে।

 

(মানিকবাবুকে…………)

রিভেঞ্জ

Blood

– এক্সাইটেড?

– প্রব্যাব্লি ইয়েস।

– এনিথিং ফর রিফ্রেশমেন্ট?

– ইয়েস, ব্লাড। ফ্রেশ, ইনোসেন্ট ব্লাড। অ্যান্ড আ লট্ অফ উন্ডস্।

– কুল। এতো উত্তেজিত হবেন না। প্রিপারেশন সব ঠিকঠাক হয়েছে তো?

– অল্ সেট, লর্ড। চোরাই গাড়ি, ফুয়েল লোডেড্, টাফ এক্সটিরিয়র। মানুষ খুনের পক্ষে এক্কেবারে আদর্শ।

– গুড্। কোনও অনুশোচনা হবে না?

– নট অ্যাট অল। তেরো বছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। টাইম ফর অ্যা ন্যুড রিভেঞ্জ।

– মদ্যপান?

– ওটাও কি নেসেসারি?

– দেখুন, রিভেঞ্জটা যখন নিচ্ছেন তখন রিভেঞ্জের মতোই নিন। সিম্পলি ইন দ্য সেম ম্যানার।

– তাই হবে।

– কাজটা কখন সারবেন?

– আজই। রাত আটটায় ব্যান্দ্রায় শ্যুট আছে। ওখানেই সবার সামনে খুন করবো। গাড়িটা পেলেও আমায় পাবে না। নো ট্রেস অ্যাট অল।

– গ্রেট প্ল্যান। গো অ্যাহেড। সকলকে আট অঙ্কের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের অন্তঃসারশূণ্যতা বুঝিয়ে দিন। শো হিম দ্য ডিফারেন্স বিটুইন মানি অ্যান্ড লাইফ। প্রচন্ড যন্ত্রণায় কয়েক মুহূর্তের জন্য যখন কাতরাবে তখন ওর শরীরের রক্তও ওকে ঘেন্না করবে। হাইরাইজের ফ্ল্যাট, ভল্টবন্দী টাকা, চকচকে মার্সিডিস এসবের তখন কোনও ভ্যালুই থাকবে না।

– আমিও শান্তি পাবো, লর্ড। আমার পরিবারও কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হবে। নিজের চোখে দেখবো ওর হৃদস্পন্দন বাড়তে, কাতরাতে, রক্ত বইতে, অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন, অবশেষে হসপিটালের বেডে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে পাঠানো শেষ নিঃশ্বাস, দ্যাট লাস্ট ব্রেদ্!

– নিশ্চয়ই দেখবেন। আফটার অল আমিও তো চাইতাম এই রিট্রিবিউশন্ টা হোক। বেস্ট অফ্ লাক।

– থ্যাঙ্ক ইউ, লর্ড।

পাতুরি

– এনি লাস্ট মিনিট সাজেশন্?

– অ্যাবাউট হুইচ?

– অবভিয়াসলি পাতুরি।

– ভেটকিটা যেন আপনার হাতেই খুন হয়। মাছওয়ালার হাতে মৃত ভেটকির পাতুরি ঠিক জমে না। ডাজনট্ গো উইথ দ্য গরম ভাত।

– বলছেন?

– একদম। আর নুনের পরিমাণটা এক্কেবারে পারফেক্ট হওয়া চাই। একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু ছেলের বাড়ির কাছে মাথা হেঁট হয়ে যাবে। সো, বি কেয়ারফুল অ্যাবাউট নুন।

– ওকে, আই উইল টেক কেয়ার অফ ইট। কিন্তু, আপনি পাতুরির ব্যাপারে এতো পোজেসিভ কেন?

– পাতুরি আপনার ট্রাম্প কার্ড, মশায়। এমন এক খাঁটি বাঙালীর বাড়ীর খাঁটি ভেটকির খাঁটি পাতুরি খেয়ে ছেলের বাড়ীর লোকেরা আপনাদের জাস্ট ধন্য ধন্য করবে, তাই না।

– হক্ কথা। তাহলে ক্যাটারারদের ঠিকমতো বুঝিয়ে বলে দিতে হবে।

– হোয়াট? ক্যাটারার? হোয়াই?

– ম্…মানে বিয়েবাড়ীতে তো ক্যাটারার থাকতেই হবে। নয়তো, রান্নাবান্না হবে কেমন করে?

– তা বলছি না। ক্যাটারার থাক। বাট্, নো আপোস উইথ পাতুরি। ওটা বাড়ীর কেউই করুন। বয়জ্যেষ্ঠ কেউ, ব্যাডলি এক্সপেরিয়েন্স্ড অ্যাবাউট ইট্।

– দেন্, মা ওটা করুন। মা পাতুরি-টাতুরি খুব ভালো পারেন। আগে গ্রামের বাড়ীতে খুব হতো। তখন হাত চেটে পুটে খেতাম। সি ইজ বেস্ট।

– ওকে। বেটার। বাট্, ওয়ান রিকোয়েস্ট।

– প্লিজ, বলুন।

– ভেটকি আমার থেকেই কিনুন। উৎকৃষ্ট কোয়ালিটি প্রোডাক্ট। ইন হোলসেল রেট। স্মুদলি অ্যাফর্ডেবল্।

– ওঃ..বুঝলাম…হুম্…ভেবে বলছি।

সিগ্রেট

– এক্সকিউজ মি!

– ইয়েস।

– সিগ্রেট হবে? দেশলাইতে আগুন ধরাবো।

– শিওর! এই নিন।

– আরে, আমি দেশলাই চাইনি। সিগ্রেট চেয়েছি। কানে কম শোনেন নাকি?

– আপনি মশাই পাগল নাকি? লোকে আগুন চায় আপনি আস্ত সিগ্রেট চাইছেন! মর্নিং ওয়াক করতে কেউ সিগ্রেট নিয়ে আসে নাকি?

– আপনি তবে দেশলাই বাক্স সাথে করে এনেছেন কেন? জামাকাপড়ে আগুন ধরাতে?

– আজব ঝগড়ুটে পাবলিক তো! পাঞ্জাবির পকেটে কাল থেকেই ছিলো। আর বের করা হয়নি, তাই থেকে গেছে। যাই হোক তাতে আপনার কি?

– অনেক কিছু। আপনার মতো এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ আমি অনেক দেখেছি। তবে তাদের কারও সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করতে পারিনি। তবে আজ করবো। আপনি যে রোজ রাত্তিরে বাড়ী ফেরার সময় ময়দানের পাশের ঐ ফাঁকা জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে প্রাণভরে সিগ্রেট টানেন, তারপর ফেলে দেন, আপনি জানেন, আরও তিন-চতুর্থাংশ তখনও বাকি থাকে?

– তো? আমার সিগ্রেট আমি কতটুকু টানবো একান্ত আমার ব্যাপার। তুমি কোন হরিদাস পাল হে?

– পাল নয়, ঘোষ। চিনতে পারছেন?

– ত্-তুমি..মানে..আমার অফিসের হরিদাস?

– আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যর। আপনার মনে আছে?

– মনে থাকবেনা আবার! তোমায় আমিই তো রিক্রুট করেছিলাম।

– তাড়িয়েছিলেনও আপনিই স্যর। চেইনড্ স্মোকিং-এর জন্যে। আর আজ দেখুন, আপনি নিজেই দিনরাত স্মোক করেন।

– কি আর করবো বলো, বাড়ির, অফিসের, ছেলে-মেয়েদের টেনশন, চাপ, এইসব থেকে জাস্ট কিছুটা চিলড্ হওয়ার জন্যে…আর তোমার খবর বলো। তোমায় তো চিনতেই পারছিলাম না। বুড়ো হয়ে গেছো।

– আপনিও তো অ্যাবভ্ ফিফ্টি। আর আমায় বুড়ো বলছেন?

– ওঃ..সরি সরি। তারপর, আজকাল কি করা হয়?

– ছেলেটা রিসার্চ স্কলার। ওর ইনকামেই মোটামুটি আনন্দে চলে যায়।

– তুমি খুব লাকি, হরি। তোমার ছেলে তোমায় দেখে। আমার মেয়েটার বিয়ে দিয়েছি, ছেলেটা আমেরিকা গেছে, মাসে দু-একবার ফোন করে। আমরা বুড়ো-বুড়ি এখানে একাই পড়ে রয়েছি। এখনও অফিস আমার সামলাতে হচ্ছে।

– স্যর, এই বয়সে বেশী ধকল নেবেন না। আসি এবার, স্যর।

– হ্যাঁ, ভালো থেকো, এসো। কোনও সাহায্য লাগলে বোলো।

– লাগবে না স্যর, ভালোই আছি।

– ওকে..ইয়ে..শোনো, তুমি প্রথমে আমায় সিগ্রেটের ব্যাপারটা দিয়ে ধমক দিলে কেন?

– আপনার অফিস থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আমি কুড়ি বছর সিগ্রেট কারখানায় কাজ করেছি। নিজের হাতে বানাতাম তো! তাই কেউ নষ্ট করলে খুব খারাপ লাগতো। অনেকে ঐ টুকু সিগ্রেটের জন্য পাগল হয়ে থাকে বছরের পর বছর! অথচ শুধু বানাতেই হয়, কেনার টাকা থাকে না..তাই..আসছি স্যর..

ট্রিগার

– চ্যাটার্জীবাবুর ব্যাপারটায় কি প্রোগ্রেস?

– স্যর, অলমোস্ট কম্প্লিট। ড্রাগ রোজই দিচ্ছি। কড়া ডোজের। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই গুড নিউজ পেয়ে যাবেন।

– গ্রেট। মিসেস্ চ্যাটার্জীর সাথে কয়েকসপ্তাহ কন্টাক্টই করা যাচ্ছে না। ওনার সাথে দেখা করে পেমেন্টগুলো আদায় করে নেবে। আর কোনও ফার্দার প্রোগ্রেস হলে নিশ্চয়ই জানাবে।

– স্যর, অভয় দিলে একটি প্রশ্ন করতে পারি?

– করো না।

– স্যর, মিঃ চ্যাটার্জীর মার্ডারটা গুলি অথবা ছুরি দিয়েও তো করা যেতে পারতো। খামোখা এই ড্রাগের পথটার কারণ কি?

– মিসেস্ চ্যাটার্জীর রক্তে একটু প্রবলেম আছে। রক্ত দেখলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। তাই কন্ট্রাক্টটা দেওয়ার সময়ই বলেছিলেন যে উইদআউট ব্লাড কাজটি সারতে হবে। এছাড়া একটু একটু করে মৃত্যু দেওয়ারও রিকোয়ারমেন্ট ছিলো। সো, দিস ইজ দ্য বেস্ট ওয়ে।

– ওহ্…বুঝলাম স্যর। আপনার বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়। কিন্তু কি লাভ বলুন, আপনার অবর্তমানে আপনার বুদ্ধিই বা আর কোন কাজে লাগবে?

– মানে? ঠিক বুঝলাম না…একি…পিস্তল বের করছো কেন?….তুমি আমায় মারবে?….আমি তোমার বস্…

– শাট্ ইয়োর ব্লাডি মাউথ আপ্! একদম মুখ কচকাবেন না।

– কিন্তু তুমি আমায় মারবে কেন?

– গুড কোশ্চেন। জানেন তো, আমি কোনওদিন ছুরি-কাঁচিই ধরিনি। বায়োলোজিতে প্র্যাকটিক্যাল করতাম না। আপনার দৌলতেই আমাকে আজ পিস্তল, ইঞ্জেকশন্ এইসব ধরতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমিই ড্রাগস্ দেই। কড়া ডোজের। তবে, মিসেস্ ব্যানার্জীকে। চমকে গেলেন তো?

– তুমি…মানে…

– ঈশ্বরের খেলাও দেখুন, আমার প্রথম কেসটা তেই আপনি আমায় মিঃ ব্যানার্জীকে খুন করার সুপারি দিলেন। সত্যিই আপনার বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারা যায় না।

– মিসেস…ব্যানার্জী…তো..

– হুম..মিসেস্ ব্যানার্জী আর কয়েকদিনের মধ্যেই…ফুঃ….

– কিন্তু তুমি কে?

– বুঝতে পারলেন না তো, আমিই মিঃ চ্যাটার্জী।

(ট্রিগার)

অ্যান্টিক্

– এটা কি, ছোটকা?
– ডোন্ট টাচ ইট্। এটা অ্যাণ্টিক। মুঘল আমলের এক ইন্টেলিজেন্ট বাবুর্চির সিক্রেট মশলার সিক্রেট বাক্স এটা।
– ঢপ দিওনা, ছোটকা। হযবরল-র একটা লিমিট আছে।
– এই দ্যাখ, পৈতে, ভরদ্বাজ গোত্র, নিরামিশাষি, রোজ সকালে একশো আট বার গায়ত্রী জপ করি। খাঁটি ব্রাহ্মণ সন্তান। আমি মিথ্যে বলি না।
– কিন্তু, মানে…আমি..এখনও..ঠিক..বিশ্বাস….ছাড়ো, কতো পড়লো?
– নিলামের ফার্স্ট-ডে তেই দেড় লাখ দিয়ে কিনলাম।
– এইটুকু ছারপোকা ধরার বাক্সের দাম দেড় লাখ? আর তুমি কিনে নিলে? মানে…টাকাপয়সার এমন অপব্যবহার…ইয়ে..
– হুঃ…ওরে, ম্যাথ্ অনার্স…তুই কি বুঝবি এইসব ভিন্টেজ রত্নের মূল্য? সারাজীবন সুদকষা, সিঁড়িভাঙা এইসব করেই কাটিয়ে দিলি!
– না…মানে…ইয়ে…ক্যালকুলাসও করেছি….যাই হোক, আমার জ্যামিতি বাক্সটা নিলাম করবো ভাবছি। সাইজে কিন্তু ওই কৌটোটার প্রায় দেড়গুণ! দু’লাখ দেবে তো?
– সারকাজম্ হচ্ছে? তাছাড়া তুই বা কোন্ কেশবচন্দ্র নাগ, যে তোর জ্যামিতি বাক্স নিলাম হবে?
– আন্ডারএস্টিমেট করছো তো? তোমার দেড় লাখের কৌটোর ঘাড় মটকাচ্ছি দাঁড়াও!
– ওরে না…না…শোন…হাত দিসনা…খুলিস না…যাঃ…
– (কৌটো খুলে গন্ধ শুঁকে) ও ছোটকা, এ তো নস্যির ডিবে! দ্যাখো, দাদুর কাছে যেমন আছে তেমনই গন্ধ!
– (অনেকক্ষণ গন্ধ নিয়ে) হ্যাঁ তো…আমাকে ঠকালো…এত্তো বড়ো…আমার দেড় লাখ..
– তোমারই আগে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত ছিলো। মুঘল যুগে আশা করি নস্যি দিয়ে মোগলাই রান্না হতো না!
– তুই থামবি! এই মুহূর্তে ফচকেমি না মারলে নয়?
– না…মানে…দ্যাখো…আমার জ্যামিতি বাক্সটা কিনলে অন্ততঃ কম্পাস, স্কেল, পেন্সিল এসব তো পেতে!
– (খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর) আমার দেড়লাখ…
– মনে করো, ইঁদুরে খেয়েছে…থুড়ি…নস্যিতে..!(বিকট হাসি)

বধ-অভ্যেস

durga

– দিস ইজ রিডিক্যিউলাস!
– হোয়াট হ্যাপেন্ড মা?
– তোকে কত্তোবার বলেছি না, তোর ঐ ষাঁড়ের মতো শিংগুলো আমার এক্কেবারে সহ্য হয় না! তবুও প্রতিবছর ঐ শিংগুলো নিয়েই ত্রিশুলের আঘাত খেতে আসিস।
– মা, আমি তো মহিষাসুর। মহিষের মতো শিং তো থাকবেই। এটা বাদ দেই কিভাবে বলুন তো! লুক টাই চেঞ্জ হয়ে যাবে। অডিয়েন্স যদি চিনতে না পারে!
– ওঃ, অডিয়েন্স তোর কাছে প্রায়রিটি পায়, আর আমি? তুই জানিস, তোর ঐ পাথরের মতো শিংগুলোতে ঠোক্কোর খেয়ে আমার কত্তোগুলো ত্রিশূলের দফারফা হয়ে গেছে? নতুন পোক্ত ত্রিশূল পাওয়াও দুষ্কর ব্যাপার! ভাব তো, ত্রিশূল ছাড়া আমার লুকের কি হবে?
– কিন্তু মা…
– কোনও কিন্তু নয়…আর একটা কথা মনে রাখ, ক্রিমিনাল মাইন্ডের জন্যে মাথায় জিলিপির প্যাঁচ থাকলেই চলে, ঘটা করে ভুসোকালি মেখে শিং-টিং লাগিয়ে আবির্ভূত না হলেও চলবে।
– ওকে মা। তবে আমারও একটি আব্দার রয়েছে। দেখুন না, যদি এই উপকারটি করতে পারেন…
– বল্!
– মা, আপনার সিংহটাকে বলুন একটু সাফ্-সুতরো হতে। ব্যাটা বছর বছর ইয়া লম্বা নখ নিয়ে বুকে আঁচড় কাটে। এই তো গতবছর সেপটিক হয়ে গিয়েছিলো, কোনওমতে বেঁচে উঠেছি। প্রায় মরতেই বসেছিলাম।
– তোর এত্তো বড় সাহস? আমার সিংহের নামে কম্প্ল্যেন এনেছিস? তোকে এবার মেরেই ফেলবো।
– মা, প্লিজ শান্ত হোন। দেখুন, আমি পটল তুললে মন্ডপে আপনার পায়ের তলায় কে থাকবে? আপনার রেপুটেশনের কি হবে?
– হুম….এটাও তো ঠিক! আচ্ছা, আমি সিংহকে বলছি। তোর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ওকে?
– ওকে…থ্যাঙ্ক ইউ, মা। এবার তবে আসি, রাক্ষসদের মহড়া দিতে হবে।
– যা, আর হ্যাঁ, নো শিং!
– প্রমিস।

দুর্গতিনাশিনী

দুর্গতিনাশিনী

– গণু…গণু…কোথায় গেলি?
– বলো মা। আমি তো রান্নাঘরে যাইনি!
– আবার রান্নাঘরের ওপরের তাক্ থেকে নাড়ু বের করে টপাটপ্ চালিয়েছিস? সত্যি, তুই না…ইনকরিজিবল্!
– সরি মা! মামাবাড়ী যেতে হবে তো, ডিস্টেন্সও খুব একটা কম নয়, তাই ভাবছিলাম, ইয়ে…মানে…যাওয়ার পথে যদি ক্ষিদে-টিদে পায়…তাই…
– থাম্, তোর হচ্ছে! তোকে ডায়েট প্ল্যান দিচ্ছি, রেগুলার ফলো করবি। একটু কিছু যদি মিস্ করেছিস খবর পাই, তবে তোর মামাবাড়ী যাওয়া ক্যানসেল। ভুঁড়ি কমা! স্লিম হ!
– প্লিজ মা, বেশ তো ছিলাম!
– উঁ হুঁ, ওটি আর হচ্ছে না। আমাদের রেপুটেশন খারাপ হচ্ছে। মর্ত্যের মেয়েগুলো তোর দিকে আর ফিরেও তাকায় না। শুধু কার্ত্তিককে দেখে আর বলে, ‘ও মাই গড্, হি ইজ সো কুল’!
– মা, তুমি তো জানো আমি প্রথম থেকেই এমন। প্লিজ ছাড়ো না, আমায় শপিং-এ যেতে হবে। মামাবাড়ী বলে কথা! সাজুগুজু ছাড়া চলে?
– স্রেফ ধুতি পরে যাবে। কোনও শপিং-টপিং নয়, এখানে শপিং করবে, পরে মর্ত্যে গিয়েও বলবে, মা..মা..শপিং করবো! ওটি হচ্ছে না। এমনিতেও ফাইন্যান্সিয়াল সিচুয়েশন খুব একটা ভালো নয়। তার ওপর দু’বার শপিং! ইম্পসিবল্!
– ঠিক বলেছো মা। মন্ডপ, মূর্তি, থিম-টিম করে ওরা যা কামায়, তার অনেক বেশী টাকা কালেক্ট করে। বাড়তি টাকা সব হয় পেটায় নমোঃ নয়তো ইন্টারনেটায় নমোঃ। ব্যাটা সব কটা ধাপ্পাবাজ!
– তাই তো বলছি, নো শপিং, নো লাড্ডু, ওনলি ডায়েট প্ল্যান।
– মা…আবার..
– চুপ! যা বলছি তাই করো।
– ওকে। বাই দ্য ওয়ে, আমার ডায়েট প্ল্যান পালনের খুঁটিনাটি বিবরণ তোমায় দেবেটা কে শুনি?
– কে আবার, তোর ইঁদুর!

ব্যানার্জির স্বপ্নভঙ্গ

attachment

 

 

– আসতে পারি?
– আরে, মিঃ ব্যানার্জি যে, আসুন…আসুন। প্লিজ হ্যাভ আ সিট্।
– থ্যাঙ্ক ইউ।
– বলুন, হোয়াটস্ দ্য ব্লাডি ম্যাটার?
– আজ্ঞে ডাক্তারবাবু, কাল রাত্রে এক মারাত্মক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখলাম।
– ওঃ, সেটা নিয়েই ভয়ে সিঁটকে আছেন? কাম অন, মিঃ ব্যানার্জি, ড্রিম ইজ ড্রিম, নট্ রিয়্যালিটি। ওইসব ঝেড়ে ফেলে দিন। রাত গ্যায়ি,      বাত গ্যায়ি। সিম্পল!
– না ডাক্তারবাবু, ভয়ের টয়ের ব্যাপার নয়! বরঞ্চ স্বপ্নটা দেখার সময় দারুন এনজয় করছিলাম। ভাঙতেই ভয় করছে।
–  ঠিক বুঝলাম না। প্লিজ এলাবোরেট।
– বলছি, বলছি। স্বপ্নে দেখলাম আমার স্ত্রী মারা গেছেন। আমি ঘরের কোণায় কোণায় শান্তিময় পরিবেশ উপভোগ করছি, বন্ধুদের সাথে    আড্ডা দিচ্ছি, বিকেলবেলায় পাড়ার ডেঁপোগুলোর সাথে ক্রিকেট খেলছি।
– এতোকিছু একই সঙ্গে করছেন? হাইলি মিস্টিরিয়াস!
– আজ্ঞে স্বপ্নের কি আর অতো মাথামুন্ডু থাকে? তবে যাই করি, মোদ্দা কথা এই, জব্বর আনন্দে কাটাচ্ছিলাম। কোনও প্রশ্ন নেই, কোন      জবাব নেই, কোন ভয় নেই। জাস্ট লিভিং দ্য লাইফ্।
– তো, সমস্যাটা কোথায়?
– আচমকা ঘুম ভাঙলো স্ত্রীর চেঁচামেচি শুনে। বাড়ীতে আজ কাজের লোক কামাই করেছে তাই তার যত ডিপ্রেশন সব আমার ওপর         ঝেড়ে আমার ঘুম ভাঙালো। কাকভোরে উঠে একগাদা বাসনপত্র মাজতে হলো। রিয়েলি টু মাচ্ ইরিটেটিং! আর এই ঘটনার পর থেকে   চারদিন কেটে গেছে। এই চারদিন রাত্রিবেলা একটুও ঘুমোতে পারিনি। চোখদুটো বুজেলই সেই হিড়িম্বামার্কা মুখ ভেসে উঠছে। প্লিজ     কিছু একটা সল্যুশন দিন।
– হুম্! কম্পলিকেটেড! ঘুমের ওষুধ নিয়ে যান।
– ওসব ট্রাই করে ফেলেছি। অলটারনেটিভ কিছু থাকলে বলুন।
– আছে তো! কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ দিচ্ছি কয়েকটা, আপনার স্ত্রীর ডিনারের ডিশে মিশিয়ে দিন। সকাল আটটার আগে ঘুম ভাঙার       কোন চান্স-ই নেই। কয়েকদিন এইভাবে চালান। ভোরবেলা স্ত্রীর চেঁচামেচি কয়েকদিন না শুনলে আপনার ভয়টাও কেটে যাবে। তবে     ঐ  কয়েকদিন আপনাকে অফিস ক্যান্টিনে খেয়ে চালাতে হবে। পারবেন তো?
– বিলক্ষণ! দারুন আইডিয়া দিলেন মশাই। ফ্যান্টাস্টিক! আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেই! রিএলি, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ!
– থ্যাঙ্ক ইউ-র প্রয়োজন নেই। ফিজ্ টা দিলেই হবে। হিঃ হিঃ!
– শিওর!