Bangla Blog

চা’ওয়ালা

02

মৃদু-মৃদু হাওয়া দিচ্ছে, সদ্য সিঙাড়ার গন্ধ, চায়ের গ্লাসের টুংটাং। বাপিদা’র দোকানের এই এক যাকে বলে ‘খাস বাত’। কাস্টোমার কখনও বোর হবে না। সারাক্ষন বাপিদা জ্ঞান ঝেড়েই চলেছে। কখনও বৌকে খুশি রাখার পদ্ধতি, কখনও দীপিকার বেশভূষা, কখনও বিরাটের কভার ড্রাইভ, আবার কখনও দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক-প্রত্নতাত্ত্বিক-ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে হাজারো টিপ্পনি, সব পাবেন বাপিদা’র থেকে। মানুষটি নিপাট ভদ্র। এত ভদ্র যে, এক লিটার দুধ দিয়ে একশোজন মানুষকে চা খাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চা নিয়ে কেউ কখনও অভিযোগ জানায়নি, রেকর্ড আছে।
আমার তো বেশ লাগে জায়গাটা। কেমন একটা লোকসভা- লোকসভা গোছের। প্রসূনদা বৌদির রান্না নিয়ে আলোচনা করছে, রবিনকাকা কোরাপশান নিয়ে বিদ্রোহী বাতেলা দিচ্ছে, বাপিদা স্পিকারের মতো সবকিছু সামাল দিচ্ছে, আর আমি বেচারা মনমোহন সিংয়ের মতো একসাইডে চুপচাপ বসে আছি। চারিদিক থেকে জ্ঞানের তীর এসে বিঁধছে। এমন তীরে আহত হতে ক‍ার না ভালো লাগে বলুন!
শুধু সমস্যা হয় বিলু এলে। বিলু আমাদের পাড়ায় থাকে। ভালো নাম কি যেন একটা, ইয়ে, আমারও মনে থাকে না। বিলুর বাবা এই চত্বরের একমাত্র ডাক্তার। ব্লাডপ্রেশার চেক থেকে অস্ত্রোপচার সব একাই পারেন। খাঁটি ট্যালেন্টেড মানুষ। বিলু এখন ইউনিভার্সিটি পাস আউট। সারাদিন উড়ে উড়ে বেড়িয়ে সন্ধ্যেবেলা বাপিদা’র দোকানে আসে মাঝে সাঝে। এসেই দুম্ করে এমন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে বসবে, যার উত্তর দেওয়ার সাধ্যি বাপিদা’র চৌদ্দ্য পুরুষের নেই। আর, আমার তো নেই ই।

সেদিন পূর্ণিমার সন্ধ্যেবেলা বিলু লেবু চায়ে টান দিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করলো,’আচ্ছা, এই যে তোরা চা খাস, ত‍াতে আবহাওয়া কতোটা ড্যামেজ হয় জানিস?’

আকস্মিক কসমিক সওয়াল! এর উত্তর জুত করে দিয়ে ফেলবো, নাহ্, এতোটা বুদ্ধিমান বা পাগল আমি নই।

প্রসূনদা একবার ড্যাব-ড্যাব করে বিলুর দিকে চেয়ে চশমাটা খুলে বললো,’চা, আর আবহাওয়া? মানে, পুরো চালতা আর সিমেন্টের মতো ব্যাপার। টকিং অ্যাবাউট চা, সে তো তুইও হুস-হুস শব্দ করে খাস, আর যদ্দূর আবহাওয়‍া সম্পর্কে জানি, তার পেছনে কাঠি করার জন্যে তো অন্য ঘটনা রয়েছে, ঐ যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং’।

05

-‘উঁ হুঁঃ, এখানেই তো হোঁচট খেলে তুমি। কসমোলজি বলছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ক্ষান্ত হয়েছে। কুমেরুর বরফ গলবে না, তুমি ভাসবে না।’

-‘ভাসবো না! ইয়ে, মানে, তবে যে খবরে, বইতে লেখা ছিলো!’

-‘স্রেফ ভাঁওতা। কখনও ভেবে দেখেছো, এই যে তুমি সারাদিনে তিরিশ খানা সিগারেট টেনে ধোঁয়া ওড়াও, সেটা কতো ক্ষতি করছে!’

-‘ঐ টুকুতে কিছু হয় নাকি?’

-‘এক্সাক্টলি। তেমনি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে পৃথিবী যে হারে গরম হচ্ছে, তাতে তুমি কেন, তোমার আগামী কুড়ি প্রজন্মও হেসে-খেলে টিকে যাবে।’

-‘তা হোক্। কিন্তু বললি না এখনও চ‍‍া কিভাবে দূষণ করছে?’

-‘ও তুমি বুঝবে না।’

-‘কি যে সব বলে!’

বাপিদা দোকানের ভেতর থেকে বলে উঠলো,’নাহ্! তোরা আর কেউ বড়ো হলি না। উল্টোপাল্টা কথাবার্তা সারাক্ষণ! ওদিকে দেখ্ আমার মতো চাওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলো! আমারও এবার একটা চেষ্টা করার দরকার অাছে। আর ভাল্লাগে না একদম এসব।’

বিলু ফিচ্ করে হেসে বললো,আগে লুঙ্গি সামলাতে শেখো, তারপর দেশ সামলাবে। কালই মিত্র বৌদির সামনে খুলে যাচ্ছিলো। অঘটন হতে বেশী সময় লাগে না। সাবধান হও।’

-‘পেছনে না লেগে এবার বিদেয় হ না বাপু। একটা সরকারি চাকরি জুটিয়ে বিয়ে-থা করে হিল্লে কর্। আর কদ্দিন শুধু আমাদের জ্ঞান দিবি?’

-‘সরকারি চাকরি? কে দেবে?’

04

-‘শুনলাম প্রাইমারির তো দশ লাখ রেট চলছে। কেন্দ্রের চাকরিও আছে। তোর কি টাকার অভাব? বাবাকে বল্ ডিসপেনসারিটা বেচে দিতে। পাক্কা একখানা চাকরি জুটে যাবে।’

-‘রক্ষে করো বাপিদা, ঐ যৌতুক আমার চাই না।’

-‘কেন? সমস্যা কী? আরে পুরো লাইফ সেট হয়ে যাবে। তারপর আনন্দ কর জীবনভর।’

-‘হ্যাঁ। এই আনন্দ লোকে নিতে যাচ্ছে বলেই তো চাকরির নিলাম হচ্ছে। সবাই দর লাগাচ্ছে। যার দর হাঁক বেশী, তার চাকরি।’

-মন্দ কী? এতো বছর তোকে খাওয়াবে, পরাবে, তোর ভরণপোষণ করবে, আর তুই তার আগে একটু খসাতে পারবি না!’

-‘না। পারবো না। এটাই তো সমস্যা। তুমি সুখ ভালোবাসো, নীতি নয়, স্রোত ভালোবাসো, সত্য নয়। তাই তুমি হাসিমুখে লাইনে দাঁড়িয়েছিলে ছ’মাস। বলতে পারো, তোমার টাকা তুমি নেবে তাতে চারঘন্টা লাইন কেন দিতে হবে তোমায়? চোর তো তুমি নও, আহম্মকও নও।’

-‘সে একটু মানিয়ে নিতে হয়, সবার ভালোর জন্যে।’

-‘তারপর? কি হলো? তোমার চারশো ঘন্টার ঘাম ঝরানো কালোটাকাওয়ালাদের চর্বি ঝরাতে পারলো কিনা জেনেছো?’

-‘নিশ্চয়ই হয়েছে। সবাই তো আর বোকা নয়!’

মুচকি হেসে বিলু বললো,’তোমারই বন্ধু তো ওমর। তাকে এপাড়ায় কেনো থাকতে দেওয়া হয়নি সেটা তুমি জানো না?
বাপিদা, উপেক্ষাটা কিন্তু সমাধান নয়। কিছুক্ষন আগেই বলছিল‍াম, চা দূষিত করছে আবহাওয়াকে, একটা চাওয়ালা করছে পুরো দেশটাকে।’

………..

বেশ অনেকদিন আর দেখা হয়নি বিলুর সাথে। শেষবার দেখা হয়েছিলো পুজোর পরে পরে। তখন জগতশুদ্ধু সামগ্রীর সাথে আধার লিঙ্ক করাচ্ছি। সেদিনও আমায় অনেক বাতেলা ঝেড়েছিলো। কিছু মাথার ওপর দিয়ে গিয়েছিলো,তবু মনে আছে।
এখন আর বিলুকে দেখা যায় ন‍া এ পাড়‍ায়।
শুনেছি এখন নিজে ব্যবসা করে। শেষ অবধি হার মানলো না ছেলেটা।।

 

 

Photo Courtesy- raghukamath.com

পুনর্মিলন

বাইরে আইসক্রিমওয়ালার ‘টিং-টিং’ শব্দে এক লহমায় ঘোর কাটলো ভুজঙ্গবাবুর। বেশ আয়েস করে ইজিচেয়ারে নিজেকে বিস্তৃত করে নিজের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির কথা ভাবছিলেন, হতচ্ছাড়াটা সব মাটি করে দিলো। ভুজঙ্গবাবুর পরিবার বলতে তিনি এবং তিনি নিজেই। এই একান্ন বছর বয়সেও তিনি গর্বিত ব্যাচেলার। তিনকুলে তাঁর কেউ নেই, যাঁরা আত্মীয় পরিজন রয়েছেন, কেউ তাঁর ধারেকাছে ঘেঁষেন না। লোকটি মারাত্মক বদরাগী এবং ততোধিক কৃপণ। এক্সট্রা খরচার ভয়ে তিনি বিয়েই করেননি। এমনকি প্র্যাক্টিক্যালের খরচা আলাদা দিতে হবে শুনে কলেজে ভর্তির সময়ে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ছেড়ে অঙ্কেই নিজেকে টেনে ঢুকিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ীতে কোনও কাকপক্ষীও আসে না। মোদ্দা কথা হলো, তিনি নিজে ব্যতিত জগৎসংসারের আপামর প্রানীকুল তাঁর উদার মনোভাবের বিষয়ে অবগত ছিলো। পাড়ায় পুজো-টুজো হলে তাঁর কাছে কস্মিনকালে চাঁদা চাইতে কেউ আসতো না। তাতে অবশ্যি তাঁর কোনওরকমের অভিযোগ ছিলো না, উপরন্তু খুশি হতেন। সাতে-পাঁচে নিজেকে না জড়িয়ে কুপমন্ডুক ধনী হওয়ায় অনেক বেশী সুখ। 

এহেন ভুজঙ্গবাবু আইসক্রিমওয়ালার ঘন্টার শব্দে তেড়েফুঁড়ে উঠে বসে অপার খিস্তাচ্ছেন, এমন সময়ে দরজায় ‘খট্-খট্’ আওয়াজ। এক নিঃশ্বাসে একগেলাস জল খেয়ে মেজাজ খিঁচড়ে দরজা খুলতেই এক প্রাপ্তবয়স্ক লোক সামনে দাঁড়িয়ে।
– নমস্কার, আপনিই ভুজঙ্গবাবু?
– হ্যাঁ। কি চাই?
– আজ্ঞে, একটু কথা ছিলো। ভেতরে আসতে পারি?
নিমেষে কুন্চিত ভ্রু নিয়ে ভুজঙ্গবাবু ভাবলেন, কাউকে বিশ্বাস করা যায় না আজকাল। তাঁর এই এত্তো বছরের জমানো ধনসম্পদ যদি ব্যাটা লুটে নিয়ে পালায়, তাহলে তাঁর রেপুটেশন যথার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
– না, যা বলার ওখান থেকেই বলুন। আর, কিছু বল‍ার না থাকলে ভাগুন।
– না, মানে, একটু পরামর্শের দরকার ছিলো। আর, ‍অাপন‍ার চেয়ে অভিজ্ঞ মানুষ এ পাড়ায় আর কে আছে বলুন?!
গোঁফটাকে সরলরেখা বানিয়ে মুচকি হেসে খানিক গর্ব বোধ করলেন ভুজঙ্গবাবু। এতোকাল নিজের সম্বন্ধে সবার মুখে গালিগালাজ ব্যতিত আর কিছুই শোনেননি। যদিও ধনাত্মক বিশেষণের অভাব তাঁর অন্তর্সত্ত্বার কিপ্টেমিকে তিলমাত্র ক্ষুণ্ন করতে পারেনি, তবুও, প্রথমবার নিজের সম্বন্ধে অন্যের মুখে ভালো কিছু শুনে বেশ লাগলো তাঁর।
– আসুন ভেতরে। তবে, জুতো খুলে। আমি মাসে একবারই এই ঘরের মেঝে পরিষ্কার করি। কালই করেছি।
– আপনি যা বলবেন।
মধ্যবয়স্ক লোকটি ভেতরে এসে সোফায় বসলো। কথা প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, ভুজঙ্গবাবুর সোফাটি তাঁর এক মাসি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন বছর কুড়ি আগে। তিনি খুব ক্ষিপ্ত হন্, তাঁর মতে একটি খাটিয়ার ওপর যখন বসা, শোয়া, পড়াশোনা ইত্যাদি যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হতে পারে, তখন সোফা কিনে ফালতু খরচার কোনও অর্থ নেই।


ভুজঙ্গবাবু বলে উঠলেন,
– হ্যাঁ। তা, মহাশয়ের কি কাজে আসা হয়েছে?
– বলছি। তার আগে অতিথি আপ্যায়ন করুন। প্রথমবার আপনার বাড়ীতে এলাম। চা-মিষ্টি কিছু দেবেন না?
– আপনি খুব হ্যাংলা, মশাই! এভাবে সামনে থেকে কেউ চায়?
– না। মানে, ভাবলাম, এতো বিশাল অর্থভান্ডারের দায়িত্ব আপনাকে দেবো, আর আপনি আমায় এককাপ চা খাওয়াতে পারবেন না?!
– কোন অর্থভান্ডার? একটু খোলসা করে বলবেন?
– বলছি। আগে চা টা পাই! এতোটা রাস্তা হেঁটে ঘেমে গিয়েছি। শরীরটা একটু জুড়োই। তারপর বলছি।
– চায়ে চিনির প্রয়োজন নেই তো?!
– বলেন কি?! চিনি ছাড়া চা ইজ লাইক ফুটো ছাড়া টাইটানিক।
– মানে, চিনিটাও জোগ‍ান দিতে হবে।
– আলবাৎ।
মিনিট তিনেকের মধ্যে গরম চা এনে হাজির করলেন ভুজঙ্গবাবু।
– আজ্ঞে, বিস্কুট?!
– তার কথা তো হয়নি।
– সব কি আপনাকে বলে দিতে হবে মশাই?! অতিথি সৎকার বোঝেন না? আপনি এত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি।
– আনছি। একটা?
– উঁহু! তিনটে।
কটমট করে খানিকক্ষন ত‍াকিয়ে বিস্কুট আনলেন ভুজঙ্গবাবু।
– ধন্যবাদ। সিগ্রেট পাওয়া যাবে?
– ধূমপান করি না। উপরি খরচা হয় তাতে।
– ও হ্যাঁ! আপনি তো আবার ব্রেকফাস্টও করেন না।
– আপনি জানলেন কিভাবে?
– জানি। জানি। পাড়ার লোকেদের মুখে শুনেছি। আপনার মতো হাড়কেপ্পন লোক পুরো ভারতবর্ষে দুটি মেলা ভার।
– হুম। সে যাই হোক। দু’বেলা পেট ঠুসে খাই। মাঝখানে আর খুচুর খুচুর চপ, কেক, মুড়ি ইত্যাদি খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। খরচা বাঁচে। কিন্তু আপনি কি জন্যে এসেছেন সেটা বলবেন? কোন বিপুল অর্থভান্ডারের জন্যে কি ব্যাপার বলুন।
– বলছি। উতলা হচ্ছেন কেন? ধৈর্য্য রাখুন। এতো বদরাগী মেজাজ ভালো নয়। নিউজ চ্যানেলে বলে, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, কিংবা ধরুন নিউমোনিয়া।
– নিউমোনিয়া?! আপনি তো মশাই মূর্খও বটে।
– তা বলতে পারেন। এই অধমের জ্ঞানগম্যি যথাসম্ভব স্বল্প।
– চা তো শেষ হতে চললো। এবার তো বলুন।
– আপনি প্রতিদিন সকালে মর্নিং ওয়াকে যান। কিংবা ধরুন, মাঝে মধ্যে পার্কে, বাড়ীর ছাদও তো রয়েছে, সেখানে গিয়ে বসুন।
– তাতে কি উদ্ধার হবে?
– হৃদয় সতেজ হবে।
– আমার হৃদয় যথাসম্ভব সতেজ রয়েছে এবং থাকবে। হুলোমার্কা নজর দেবেন না।
– ছি..ছি..নজর দেবো কেন?! আপনার জন্যে খুব চিন্তা হয়।
– আপনি আবার কোন্ শুভাকাঙ্ক্ষী এলেন?
– জাভেদকে মনে আছে স্যর?
– নাইন্টি সেভেন?
– হ্যাঁ স্যর। আপনার তো মনে আছে দেখছি।- কিভাবে ভুলবো বল্?! তোদের কতো পিটিয়েছি। হতচ্ছাড়া সব। তা অ্যাদ্দিন পর কি মনে করে?!
– আমার মেয়েটাকে পড়াতে হবে স্যর। খুব বিচ্ছু। জানি, আপনি প্রাইভেট টিউশন দেন না। তাই রিকোয়েস্ট করছি স্যর। আপনি ছাড়া ওকে আর কেউ অঙ্ক বোঝাতে পারবে না।
– বটে?
– আসবেন তাহলে?
– যাবো যাবো।
– আজ তাহলে উঠি স্যর।
– আয়।
– সরি। আপনার চা-বিস্কুট মিলে অনেক খরচা করিয়ে দিলাম।
– বেতনে অ্যাডজাস্ট করে নেবো।
– (মুচকি হেসে) আসছি স্যর।

(ইলাস্ট্রেশন- http://www.clipartof.com)

Q-ফেলু

collage_fotor

 

– খবরের কাগজের বক্তব্য কি আজ? রসালো কিছু আছে নাকি লালমোহন বাবু?
– কেন বলুন তো মশাই? কিছু আন্দাজ করছেন নাকি?
– না…মানে আজকাল সবই কমপ্লেক্স তো! তাই গাছের পাতা খসলেও হেডলাইন হতে বেশি সময় লাগে না।
– হুম…একখানা দারুন নাম মনে করালেন মশাই! নেক্সট গল্পটায় একটু হাস্যকর অ্যাপ্রোচ রাখছি। নামটা পারফেক্ট হবে। “হেডস্যরের হেডলাইন”! বাঃ…আপনি নিঃসন্দেহে জিনিয়াস!
– বলেন কি?! লোকে তো মানিকবাবুকে খিস্তি করছে! এইরকম অপদার্থ ক্যারেক্টার সৃষ্টি করার জন্যে!
– অ্যাঁ…ইয়ে…মানে…কবে…??? কে…??? কিভাবে…??
– জানেন না?

ও…আপনি তো আবার স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নেই! লালমোহন বাবু, মানুষ চাঁদে পৌঁছে গেলো, আর আপনি এখনও শুধু কাগজ, কলম আর হার্ডকপিতে আটকে রয়ে গেলেন!
– ওফ…লেগপুলিং বন্ধ করুন তো মশাই! টপিকে আসুন। সেই মহান ব্যক্তিটি কে?
– ঐ, একজন স্বনামধন্য বাংলা চিত্রপরিচালক। তিনি সন্দীপের লাস্ট ছবিটা দেখে আমায়, তপেশকে, এমনকি মানিকবাবুকেও খিস্তি করেছেন। আপনি বয়েঃজ্যেষ্ঠ। তাই আপনার সামনে খিস্তিগুলো বললাম না।
– হাইলি সাশপিশাস!!! কোনও রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন নাকি?
– আমি না পেলেও…মিডিয়া কোনও ষড়যন্ত্রের গন্ধ অবশ্যই পেয়েছে। ওদের নাক কুকুরের থেকেও বেশি সেনসিটিভ! আজকাল তো একটা মশা মরলেও ওরা শ্রবণশক্তি আর হস্তযুগলের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়।
– কিন্তু এই অপমান! মানে…বাঙালি কোনও প্রতিবাদ করলো না?
– করেছে…করছেও…তর্জনীর খোঁচায় চল্লিশ-বেয়াল্লিশ জনকে ট্যাগিয়ে প্রতিনিয়ত বিপ্লবী আন্দোলন চলছে ফেসবুকে, ট্যুইটারে।
– আর আপনার কি মতামত? মানে, আপনারই তো সম্মান ওষ্ঠাগত হওয়ার কথা!
– আমি কি আর আমি আছি, লালমোহন বাবু?! আমি জন্মেছিলাম ছিন্নপত্রে, এলাম বাইন্ডিং করা বইতে। তারপর রূপোলী পর্দা, তারপর সোনালী পর্দা…প্রতিনিয়ত অস্ত্রোপচার হয়ে চলেছে আমার ওপর। বাঙালি তো আজকাল ফেলু মিত্তির বলতে গোল্ডেন স্ক্রিন, সন্দীপ রায় আর সব্যসাচীকেই বোঝে। আমি কোথায়? তিনি তো ঐ পোস্টমর্টেম করা ফেলুকেই গালাগাল করেছেন। আমায় নয় তো!
– কথাটা সত্যি বটে! আচ্ছা আমরা কি পুরোটাই ভার্চুয়াল?!
– অনেকটাই…তবে পুরোটা নয়।
– পুরোটা নয় কেন?
– লালমোহন বাবু, এখনও বইমেলায় অনেকে খাবারের স্টলের বদলে বইয়ের স্টল প্রেফার করে।

 

(মানিকবাবুকে…………)

26/11

– এতক্ষণ কি খুচখুচ করছিস মোবাইলে?

– ঝিঙ্কু একখানা স্টেটাস দেবো ফেবুতে, ভাবছি কি দেবো। 

– কেন? আজ কোনো প্রেমের গপ্পো পড়লি নাকি?

– আরে না..না..কি যে বলো…

– তবে?

– আজ অ্যানিভার্সারি না?!

– কিসের?

– ঐ যে, মুম্বই অ্যাটাকের!

– ও…হ্যাঁ..আজ তো ওটাই ট্রেন্ডিং! তা কিছু বেস্ ঠিক করলি? 

– মানে?

– মানে, পাকিস্তানকে খিস্তি দিবি নাকি ইসলামকে?

– ইয়ে…ওই ব্যাপারেই একটু ঘেঁটে আছি।

– কেন? তখন তো গলা ফাটিয়ে আইডিওলজিস্টদের সাথে গলা মেলাচ্ছিলি..”ইসলাম মুর্দাবাদ”! আজ নেতিয়ে পড়লি?!

– নেতিয়ে পড়িনি…ওই একটু ইতস্ততঃ বোধ করছি। ধর্মের ব্যাপার তো!

– আচ্ছা?! তাই না?! ইসলামে কি এই খুনগুলোর সুপারি দেওয়া ছিলো? কি মনে হয় তোর?!

– না..মানে..ওরা আর কি পারে বলো?! আমাদের পুরো নগ্ন করে দিলো!

– আচ্ছা..তুই তাহলে ঐ আবরনের কাপড় খুঁজছিস?

– আমি যুদ্ধ চাইছি! কোরানকে তার যোগ্য জবাব দেব!

– কার্গিল পার্ট টু?! তা এই যুদ্ধের লক্ষ্য কি হবে? কোরানের মৃত্যু ?

– হুম..আমরাই শ্রেষ্ঠ!

– ও..তা বটে…তুই তো রীতিমতো ঐ সেলিব্রিটিদের মতো দাবি করছিস!

– কোন সেলিব্রিটি?

– ঐ যে, যারা আমাদের নয়, মনুষ্যত্বকে নগ্ন করেছিলো, ইসলামকে ছিঁড়ে ফেলেছিলো…ঐ বোটে আসা মানুষখেকো বর্বরগুলো…যারা ধর্মের এক শতাংশ বুঝলেও আল্লাহ্ বলতেন “মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া”!

(চিত্র সংগৃহিত)

নোটব্যান


– নোটব্যান সাপোর্ট করছেন তাহলে?
– বিলক্ষণ! এই না হলে দেশ! কোরাপশন ফ্রি, ব্ল্যাকমানি ফ্রি, দুর্দশা ফ্রি, পুরো স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন চিন্তাভাবনা। আবার আজকাল তো ইন্টারনেটও ফ্রি! সত্যি মশাই, অনেকটা আমেরিকাকে টক্কর দিচ্ছি আমরা।

– ওবামা সমর্থন করছেন তাহলে?

– ওবামা কি মশাই! ওবামার বাবা-মা সকলে সমর্থন করছেন। আমাদের প্রেসিডেন্টের সাথে কোলাকুলির সিনটা দেখেননি?!

– কিন্তু সে তো নোটব্যানের অনেক আগে!

– আহ্! মোদ্দা কথা হল তিনি আমাদের দেশের পাশে আছেন। আরে তিনি তো বটেই, ট্রাম্পসাহেব ও আমাদের পাশে আছেন। আমাদের চারিদিক থেকে বেষ্টন করে আছেন। ‘ক্যুইটার’ দেখেন না?! ওখানেও অনেকে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।

– না…আসলে ওইসব এই বয়সে আর..মানে…

– এই হলো মশাই আপনাদের বদরোগ! দেশের তাবড় তাবড় শিল্পপতিরা বিনি পয়সায় ইন্টারনেট দিচ্ছে, দেশ চেঁচাচ্ছে ‘ডিজিট্যাল হও..ডিজিট্যাল হও’, আর আপনারা এখনও বোকাবাক্স আর খবরের কাগজের বাইরে বের হতে পারলেন না! আরে…আমরা সেই দেশ, যারা কিছুদিন আগে মঙ্গলে পৌছোলাম!

– তা বটে, তা বটে! বেড়ে কাজ করছে মশাই আমাদের দেশ! কিন্তু বলতে পারেন, ঐ ফুটপাথের হাড়গিলে কঙ্কালগুলোর কি হবে? ওগুলো কি কোনোদিন চামড়া-মাংস পাবে না?!

– আরে মশাই…ওটা টাইমের ব্যাপার। ওগুলো নন্ প্রফিটেবল ইনভেস্টমেন্ট, বুঝলেন কিনা! ইকনমিক্স বোঝেন তো? ওগুলো সুরাহা করতে কেউ পা বাড়াবে না। এই রোবোটের যুগে থাক কিছু জ্যান্ত রোবোট!

– হুম..প্রোভার্টি ইজ আওয়ার ক্লোথ অ্যান্ড হাঙ্গার ইজ আওয়ার ফ্যাশন!

– কারেক্ট…নো সন্দেহ।

– এই যে…আমার বাস আসছে। আরে..বাই দ্য ওয়ে…অাপনি কি করেন?

– আমি টিউশনি পড়াই..প্রাইভেট টিউটর। আর আপনি?

– আজকাল ব্যাঙ্ক আর এটিএমের বাইরের লাশগুলো গুনছি…

চললাম…

(চিত্র ইন্টারনেট হইতে সংগৃহীত)

প্রত্যাবর্তন

রবি ঘোষ

– হ্যালো!

– মানিকবাবু?

– বলছি! আপনি?

– সে না হয় একটু পরে বলছি। আগে বলুন, কেমন আছেন? মানে…ইয়ে..মর্ত্যের মায়া ছেড়ে তো অনেকদিন হয়ে গেলো!

– দিব্যি আছি। গুণীজনদের সাথে সখ্যতা রয়েছে। আনন্দেই কাটাচ্ছি।

– আর কিছু প্রোগ্রেস?

– হুঁ..’ফেলুদা ইন আফটারলাইফ’ একটা উপন্যাস অন দ্য ওয়ে। প্রায় শেষ হয়েই এসেছে। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে। অবিশ্যি, এখন থেকেই ‘ভূতবুক’, ‘ভূতস্টাগ্রাম’ এইসমস্ত স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও প্রচার চালাচ্ছি। আশা করি ভালোই বিক্রিবাটা হবে।
বাই দ্য ওয়ে, আপনি কিন্তু আপনার নাম বললেন না।

– নিশ্চয়ই বলবো। এতো তাড়াহুড়ো কিসের?
তা বলছি, ‘গুপি-বাঘা’ নিয়ে কিছু ভাবলেন?

– চিন্তা চলছে। দর্শকদের ডিমান্ড, এবার গুপি-বাঘাকে একটা নতুন লুক্ দিতে হবে। যেমন ধরুন, গুপির পরনে ফেডেড জিন্স ও টি-শার্ট, বাঘার পরনে ক্যাজুয়াল টি-শার্ট এবং হাতে গিটার!

– বলেন কি মশাই? পাবলিক খাবে তো?

– আলবাৎ খাবে। কেন মশাই? অড লাগছে?

– তা তো একটু লাগছেই। মানে দেখুন, তামাম বাঙালী এতোদিন খোলধারী বাঘাকেই চিনে এসেছে। তা, এই ইম্প্রোভাইজেশন বাঙালীর সইবে তো?

– আগে আপনি কে বলুন তো মশায়!

– বলবো, বলবো। ধৈর্য ধরুন। আচ্ছা, ‘সোনার কেল্লা’ ছবিটার রিমেক করলে কেমন হয় বলুন তো?

– রিমেক?

– আজ্ঞে! যেমন ধরুন, ‘সোনার কেল্লা ২’ অথবা ‘আর একটি সোনার কেল্লা’!

– সে দেখা যাক। বাট্, আপনি এতো ইন্ট্রেস্টেড কেন?

– রোলটা পাওয়ার জন্য। বাঙালীর চোখে আর একবার ধরা দেওয়ার জন্য। হাতে গোণা কয়েকজনের গন্ডি ছাড়িয়ে আরও একবার খানিকটা বিস্তৃত হওয়ার জন্য।

– আপনি কে বলুন তো?

– আজ্ঞে রবি ঘোষ বলছিলাম স্যর!

(রবি ঘোষ স্মরণে…….)

সদুপদেশ

conversation_002

– তোর দ্বারা কিস্যু হলো নাহ্!

– কেন ছোটকা? এই তো সদ্য চাকরি পেলাম। পাঁচ অঙ্কের স্যালারি। নেহাত খারাপ নয়।

– চাকরি পেলেই সব হয়ে গেলো? গাধার মতো খাটার একখানা লাইসেন্স পেলি, এই যা!

– একটু খোলসা করে বলবে, কি বলতে চাইছো?

– ফ্ল্যাশব্যাকে যা। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? একটা ছোট্ট মিষ্টি ছেলে, ছোটকার সাথে খেলছে, পার্কে যাচ্ছে, ছোটকার থেকে টাকা নিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে। কিছু দেখতে পাচ্ছিস? আবছা?

– বুঝলাম ছোটকা। কিন্তু, পয়েন্ট টা কি?

– পয়েন্ট টা হচ্ছে এই যে, এই রিসেশনের যুগে ইঁদুরদৌড়ে অংশগ্রহন করে একখানা মাথাগোঁজা চাকরি জুটিয়ে নিলেই তোর জীবন সম্পূর্ণ নয়। তুই জানিস, তোর লাইফে কোন ইয়ে নেই!

– এই ‘ইয়ে’ টা কি, শুনি?

– এক্সাইটমেন্ট, জয়নেস্, ক্রিয়েটিভিটি এইসব ইয়ে। মানে, খানিকটা লাগামছাড়ানেস্। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস-আউট করার পর তো কোনোদিন তোকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেও দেখলাম না! আর, প্রেম-টেম ও তো করিস না। এমন চেপে-চুপে বেঁচে থাকলে কি আর তাকে মানুষ বলা চলে? নো এক্সাইটমেন্ট, নো থ্রিল!

– হুম্….তোমার কাছে সবচেয়ে সিম্পল থ্রিল কি?

– থ্রিল তো অনেক প্রকারেরই হতে পারে। যেমন ধর, রাত্তিরবেলা সকলে ঘুমিয়ে রয়েছে। সেই সুযোগে তুই ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম নিয়ে পুরোটা সাবাড় করে দিলি। সকালে কেউ আইসক্রিমের খোঁজ করলে পরিপাটি করে সম্পূর্ণ ঘটনাটাকে অস্বীকার করে গেলি।

– এক মিনিট…এই আইসক্রিমের পরিবর্তে রসমালাই হলে কেমন হয়? মানে…বহুদিন অভ্যাস নেই তো, তাই আইসক্রিম ঠিক..মানে…জমবে না আর কি।

– রসমালাই? ওকে…বেটার অপশন্! কিম্বা জলভরা হলে কেমন হয়?

– টেম্পটিং!

– গ্রেট! কিম্বা পিওর রসগোল্লা!

– এক মিনিট, ছোটকা। আলোচনাটা ক্রমশ মিষ্টান্নের দিকে ইনক্লাইন্ড হচ্ছে। টপিক হারিয়ে ফেলছি আমরা।

– ওরে গাধা, এটাই তো প্রাইমারি লেভেল অফ লাগামছাড়ানেস্!

মধুরে-ন সমাপয়েৎ

thrill

– এত উদাসীন কেন? কি হয়েছে?

– মধ্যরাত্রি বিপর্যয়, অর্থাৎ, মিডনাইট ক্রাইসিস।

– উফ্, এই মাঝরাত্তিরে কি এমন বিপত্তি ঘটলো?

– শুধু বিপত্তি নয়, ম্যাক্রো সাইজের দ্বিধাও বলতে পারো।

– স্টপ হেঁয়ালি, প্লিজ! বলো না কি হয়েছে?

– যুদ্ধ!

– অ্যাঁ! চাঁদ এখন ফ্যালফ্যাল করে উঁকি মারছে, স্টেশন ফাঁকা, মোড়ের কুকুরগুলোর ভ্যানতাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পিন ড্রপ সাইলেন্ট নাইট! এখন তুমি কোন্ সিপাহী বিদ্রোহের পটভূমির কথা বলছো?

– সিপাহী বিদ্রোহ নয়, তবে মস্তিস্ক বিদ্রোহ বলতে পারো।

– অর্থাৎ?

– অর্থাৎ, ফ্রিজ খুলে দেখলাম আইসক্রিম রয়েছে আবার জলভরাও রয়েছে। বোথ আর ফ্রেশ এনাফ্। তাই কোনওভাবেই ডিসাইড্ করতে পারছি না কোনটা খাওয়া সমীচিন।

– মাঝরাত্তিরে জলভরা, আইসক্রিম? শরীর ঠিক আছে তো?

– অ্যাবসল্যুটলি ফাইন্। মাঝরাত্রে ঘুম ভেঙে উঠে আইসক্রিম খাওয়ার থ্রিলটা গ্র্যাব করতে চাইছিলাম। যুদ্ধটা বাধালো জলভরা।

– রিয়লি, ইউ নিড সাইকিয়াট্রিস্ট হেল্প। ফ্রিজ খুলে দেখো, না আইসক্রিম আছে, না জলভরা।

– হোয়াট!

– হুঁ! কাল সমু আইসক্রিমের পুরোটাই চেটে পুটে খেয়ে নিয়েছে। আর জলভরা, সে তো প্রায় মাসখানেক আনাই হয়নি!

– হলি ক্র্যাপ! এ কি তবে নিছক হ্যালুসিনেশন্? নাকি ইনোসেন্ট স্বপ্ন?

– ইনোসেন্ট? স্কুল পালানো বিচ্ছুরাও অমন এঁদোমার্কা স্বপ্ন দেখে না।

– স্বপ্নের আবার ক্লাস হয় নাকি?

– হয় বৈ কি!

– আর, স্বপ্নে হ্যালুসিনেশন্? সেটা পসিবল্?

– উঁ হুঁ! তা জানা নেই। তবে মাইন্ড পজিটিভ থাকলে স্বচ্ছন্দে সাফসুতরো স্বপ্ন দেখা যায়। আর, দিনরাত খাই-খাই করলে স্বপ্নেও আইসক্রিম, জলভরা, চকোলেট এইসমস্ত বস্তু দেখা দেবেন।

– ও, থ্যাঙ্কস্ আ লট্। চকোলেটের কথা তো মনেই ছিলো না। কালই এনেছিলাম। ফ্রিজে এখনও স্বমহিমায় উপবেশিত থাকা উচিত। আইসক্রিম, জলভরা না থাক্, চকোলেট ইজ্ টেস্টি এনাফ্ ফর্ মিডনাইট থ্রিল্।

– ওয়ান বাইট্ ফর মি টু!

– তুমিও?

– তোমার ‘হাফ্’ বলে কথা!

ব্রেক আপ অন্ থার্টিফার্স্ট

– থ্রো অফ্ রসগোল্লা।

– পাগল নাকি? ভয়াবহতাটা বুঝিস?

– খুব বুঝি। এটাই খানিক ডিফারেন্ট অ্যান্ড হেল্থ ফ্রেন্ডলি।

– তাই বলে রসগোল্লা? প্লিজ! ট্রাই সামথিং এল্স।

– দেন্, উমম্…কচুরি।

– ইম্পসিবল। এই সব জিভে জল আনা হ্যাবিটগুলো গিভ আপ করতে পারবো না বস্!

– বাট্, নিউ ইয়ার রিস্যোল্যুশন্-এ কিছু নতুন অভ্যেস শিরোধার্য করার সাথে কিছু গিভ আপ্ ও করতে হয়।

– তুই ফোর্স করলি বলেই তো নিলাম, ‘আরলি রাইজ’ অ্যান্ড ‘মর্নিং ওয়াক’! কিন্তু ‘রসগোল্লা’ আর ‘কচুরি’ গিভ আপ্? মাঠে মারা পড়ে যাবো রে!

– কিস্যু করার নেই। দিস ইজ দ্য নিয়ম।

– বলছি, আরও তো উপায় আছে, অল্টারনেটিভ?

– আছে বৈ কি! স্পটলাইটে লুঙ্গি পরে ডিস্কো ডান্স কর, কিংবা গড়ের মাঠে গড়াগড়ি খা।

– সারকাজম?

– ফুঃ! সারকাজম্ ব্যাপারটাই সারকাস্টিক। হনুমানদের মতো। কেউ বলে ভগবান, কেউ বলে হনুমান।

– ক্যাবলামার্কা যুক্তিতক্কো করিস না, প্লিজ।

– সরি, ‘ক্যাবলা’ নামে বাংলা অভিধানে কোনও শব্দ নেই।

– থামবি এবার?

– আগে ডিসাইড কর কি ছাড়বি?

– ইয়ে, প্র্যাক্টিক্যালি ভাবতে গেলে পুরোনো বছরটাকে তো এমনিতেই ছাড়ছি। আর তার সাথে পুরোনো ক্যালেন্ডার।

– আর?

– তোকে।

– সে তো কবেই ছেড়েছিস। চার বছর হয়ে গেলো।

– ইম্প্যাক্ট টাই আলাদা, তাই না! ফুচকার স্টলে লঙ্কার ইম্প্যাক্টের মতো। থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বরে ব্রেক আপ! ভাবা যায়!

– ইম্প্যাক্ট? অবশ্য, তাই বলতে পারিস।

– দুঃখ হয় নাকি?

– নাঃ! বছরগুলোই শুধু ঘোরে। ক্যালেন্ডার বদলায়। সময়ের মৃত্যু হয় না।

সোয়েটার

– চলবে?

– নো, থ্যাঙ্কস্! আই ডোন্ট স্মোক।

– আরে নিন্, নিন্। ঠকঠক করে কাঁপছেন তো! এখন আইডিয়ালিজম্-এ মারুন গুলি!

– আইডিয়ালিজম্ নয় মশাই! হ্যাবিচুয়েশন্।

– আর সোয়েটার? ওটাও কি হ্যাবিচুয়েশন্?

– কিছুটা। বাকিটা নেসেসিটি।

– হুঁ! এই বারো ডিগ্রি টেম্পারেচারে থ্রিল্ চান?

– যেমন?

– যেমন ধরুন, আপনার সোয়েটার আমি চুরি করলাম। আর আপনায় দু’পেগ ব্র্যান্ডি দিলাম।

– আমি খাঁটি ব্রাহ্মণ সন্তান, বুঝলেন? সিগ্রেট, মদ্যপান এসব কোনওদিন করিও নি এবং আই হেট দোজ পিপল্ হু ড্রিংক অর স্মোক। দ্যাটস্ অল।

– অর্থাৎ, হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ দেব, তবু মদ ছোঁব না?

– এক্স্যাক্টলি।

– সোয়েটার আর ব্যান্ডির পেগের মধ্যে ডিফারেন্স কি জানেন?

– কি? শুনি

– সোয়েটার কনটেইন্স অ্যান্ড ব্র্যান্ডি নিডস্ আ কনটেইনার। দ্যাটস্ অল। এক্সসেপ্ট ইট, দুটোর উপকারিতা প্রায় একই।

– তা হোক্, তবু ঐতিহ্য খোয়াচ্ছি না।

– হুঁ! টিপিক্যাল বঙ্গসন্তান! তা ঐতিহ্য শো অফ্ করানোর যোগ্যতা তো চাদরেরও রয়েছে। হঠাৎ সোয়েটার দিয়ে ঐতিহ্যের বড়াই করার এতো ঝোঁক?
ওটা তো বিলিতি আমদানি!

– চাদরের কোন ক্লাস নেই মশাই। এছাড়া মেইনটেইন করা খুব টাফ্। তুলনায়, সোয়েটার ইজ মোর কম্ফর্টেবল অ্যান্ড ওয়ার্ম। আর, চাদরের হেরিটেজ খুব উইক।

– বলেন কি? বঙ্কিমচন্দ্র থেকে বিদ্যাসাগর, ফেলুদা থেকে ব্যোমকেশ সকলেই চাদরকে প্রায়রিটি দেন।

– তখন সোয়েটার ছিলো না তাই!

– হাঃ হাঃ! ছিলো মশাই, ছিলো। বাঙালীরা পরতেন না। ওটিই ছিলো ঐতিহ্য।

– থামুন তো! আর ভাট বকে কাজ নেই। হেরিটেজ ইজ ইন সোয়েটার। অ্যান্ড, মোরওভার আমি ব্র্যান্ডি ছোঁব না, ছোঁব না।

– হাঃ হাঃ হাঃ! সোয়েটার, ব্র্যান্ডি দুটোই ফিরিঙ্গিদের আমদানি, বুঝলেন মশাই?