banglaarticle

Q-ফেলু

collage_fotor

 

– খবরের কাগজের বক্তব্য কি আজ? রসালো কিছু আছে নাকি লালমোহন বাবু?
– কেন বলুন তো মশাই? কিছু আন্দাজ করছেন নাকি?
– না…মানে আজকাল সবই কমপ্লেক্স তো! তাই গাছের পাতা খসলেও হেডলাইন হতে বেশি সময় লাগে না।
– হুম…একখানা দারুন নাম মনে করালেন মশাই! নেক্সট গল্পটায় একটু হাস্যকর অ্যাপ্রোচ রাখছি। নামটা পারফেক্ট হবে। “হেডস্যরের হেডলাইন”! বাঃ…আপনি নিঃসন্দেহে জিনিয়াস!
– বলেন কি?! লোকে তো মানিকবাবুকে খিস্তি করছে! এইরকম অপদার্থ ক্যারেক্টার সৃষ্টি করার জন্যে!
– অ্যাঁ…ইয়ে…মানে…কবে…??? কে…??? কিভাবে…??
– জানেন না?

ও…আপনি তো আবার স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নেই! লালমোহন বাবু, মানুষ চাঁদে পৌঁছে গেলো, আর আপনি এখনও শুধু কাগজ, কলম আর হার্ডকপিতে আটকে রয়ে গেলেন!
– ওফ…লেগপুলিং বন্ধ করুন তো মশাই! টপিকে আসুন। সেই মহান ব্যক্তিটি কে?
– ঐ, একজন স্বনামধন্য বাংলা চিত্রপরিচালক। তিনি সন্দীপের লাস্ট ছবিটা দেখে আমায়, তপেশকে, এমনকি মানিকবাবুকেও খিস্তি করেছেন। আপনি বয়েঃজ্যেষ্ঠ। তাই আপনার সামনে খিস্তিগুলো বললাম না।
– হাইলি সাশপিশাস!!! কোনও রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন নাকি?
– আমি না পেলেও…মিডিয়া কোনও ষড়যন্ত্রের গন্ধ অবশ্যই পেয়েছে। ওদের নাক কুকুরের থেকেও বেশি সেনসিটিভ! আজকাল তো একটা মশা মরলেও ওরা শ্রবণশক্তি আর হস্তযুগলের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়।
– কিন্তু এই অপমান! মানে…বাঙালি কোনও প্রতিবাদ করলো না?
– করেছে…করছেও…তর্জনীর খোঁচায় চল্লিশ-বেয়াল্লিশ জনকে ট্যাগিয়ে প্রতিনিয়ত বিপ্লবী আন্দোলন চলছে ফেসবুকে, ট্যুইটারে।
– আর আপনার কি মতামত? মানে, আপনারই তো সম্মান ওষ্ঠাগত হওয়ার কথা!
– আমি কি আর আমি আছি, লালমোহন বাবু?! আমি জন্মেছিলাম ছিন্নপত্রে, এলাম বাইন্ডিং করা বইতে। তারপর রূপোলী পর্দা, তারপর সোনালী পর্দা…প্রতিনিয়ত অস্ত্রোপচার হয়ে চলেছে আমার ওপর। বাঙালি তো আজকাল ফেলু মিত্তির বলতে গোল্ডেন স্ক্রিন, সন্দীপ রায় আর সব্যসাচীকেই বোঝে। আমি কোথায়? তিনি তো ঐ পোস্টমর্টেম করা ফেলুকেই গালাগাল করেছেন। আমায় নয় তো!
– কথাটা সত্যি বটে! আচ্ছা আমরা কি পুরোটাই ভার্চুয়াল?!
– অনেকটাই…তবে পুরোটা নয়।
– পুরোটা নয় কেন?
– লালমোহন বাবু, এখনও বইমেলায় অনেকে খাবারের স্টলের বদলে বইয়ের স্টল প্রেফার করে।

 

(মানিকবাবুকে…………)

ট্রিগার

– চ্যাটার্জীবাবুর ব্যাপারটায় কি প্রোগ্রেস?

– স্যর, অলমোস্ট কম্প্লিট। ড্রাগ রোজই দিচ্ছি। কড়া ডোজের। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই গুড নিউজ পেয়ে যাবেন।

– গ্রেট। মিসেস্ চ্যাটার্জীর সাথে কয়েকসপ্তাহ কন্টাক্টই করা যাচ্ছে না। ওনার সাথে দেখা করে পেমেন্টগুলো আদায় করে নেবে। আর কোনও ফার্দার প্রোগ্রেস হলে নিশ্চয়ই জানাবে।

– স্যর, অভয় দিলে একটি প্রশ্ন করতে পারি?

– করো না।

– স্যর, মিঃ চ্যাটার্জীর মার্ডারটা গুলি অথবা ছুরি দিয়েও তো করা যেতে পারতো। খামোখা এই ড্রাগের পথটার কারণ কি?

– মিসেস্ চ্যাটার্জীর রক্তে একটু প্রবলেম আছে। রক্ত দেখলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। তাই কন্ট্রাক্টটা দেওয়ার সময়ই বলেছিলেন যে উইদআউট ব্লাড কাজটি সারতে হবে। এছাড়া একটু একটু করে মৃত্যু দেওয়ারও রিকোয়ারমেন্ট ছিলো। সো, দিস ইজ দ্য বেস্ট ওয়ে।

– ওহ্…বুঝলাম স্যর। আপনার বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়। কিন্তু কি লাভ বলুন, আপনার অবর্তমানে আপনার বুদ্ধিই বা আর কোন কাজে লাগবে?

– মানে? ঠিক বুঝলাম না…একি…পিস্তল বের করছো কেন?….তুমি আমায় মারবে?….আমি তোমার বস্…

– শাট্ ইয়োর ব্লাডি মাউথ আপ্! একদম মুখ কচকাবেন না।

– কিন্তু তুমি আমায় মারবে কেন?

– গুড কোশ্চেন। জানেন তো, আমি কোনওদিন ছুরি-কাঁচিই ধরিনি। বায়োলোজিতে প্র্যাকটিক্যাল করতাম না। আপনার দৌলতেই আমাকে আজ পিস্তল, ইঞ্জেকশন্ এইসব ধরতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমিই ড্রাগস্ দেই। কড়া ডোজের। তবে, মিসেস্ ব্যানার্জীকে। চমকে গেলেন তো?

– তুমি…মানে…

– ঈশ্বরের খেলাও দেখুন, আমার প্রথম কেসটা তেই আপনি আমায় মিঃ ব্যানার্জীকে খুন করার সুপারি দিলেন। সত্যিই আপনার বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারা যায় না।

– মিসেস…ব্যানার্জী…তো..

– হুম..মিসেস্ ব্যানার্জী আর কয়েকদিনের মধ্যেই…ফুঃ….

– কিন্তু তুমি কে?

– বুঝতে পারলেন না তো, আমিই মিঃ চ্যাটার্জী।

(ট্রিগার)