– এত উদাসীন কেন? কি হয়েছে?
– মধ্যরাত্রি বিপর্যয়, অর্থাৎ, মিডনাইট ক্রাইসিস।
– উফ্, এই মাঝরাত্তিরে কি এমন বিপত্তি ঘটলো?
– শুধু বিপত্তি নয়, ম্যাক্রো সাইজের দ্বিধাও বলতে পারো।
– স্টপ হেঁয়ালি, প্লিজ! বলো না কি হয়েছে?
– যুদ্ধ!
– অ্যাঁ! চাঁদ এখন ফ্যালফ্যাল করে উঁকি মারছে, স্টেশন ফাঁকা, মোড়ের কুকুরগুলোর ভ্যানতাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পিন ড্রপ সাইলেন্ট নাইট! এখন তুমি কোন্ সিপাহী বিদ্রোহের পটভূমির কথা বলছো?
– সিপাহী বিদ্রোহ নয়, তবে মস্তিস্ক বিদ্রোহ বলতে পারো।
– অর্থাৎ?
– অর্থাৎ, ফ্রিজ খুলে দেখলাম আইসক্রিম রয়েছে আবার জলভরাও রয়েছে। বোথ আর ফ্রেশ এনাফ্। তাই কোনওভাবেই ডিসাইড্ করতে পারছি না কোনটা খাওয়া সমীচিন।
– মাঝরাত্তিরে জলভরা, আইসক্রিম? শরীর ঠিক আছে তো?
– অ্যাবসল্যুটলি ফাইন্। মাঝরাত্রে ঘুম ভেঙে উঠে আইসক্রিম খাওয়ার থ্রিলটা গ্র্যাব করতে চাইছিলাম। যুদ্ধটা বাধালো জলভরা।
– রিয়লি, ইউ নিড সাইকিয়াট্রিস্ট হেল্প। ফ্রিজ খুলে দেখো, না আইসক্রিম আছে, না জলভরা।
– হোয়াট!
– হুঁ! কাল সমু আইসক্রিমের পুরোটাই চেটে পুটে খেয়ে নিয়েছে। আর জলভরা, সে তো প্রায় মাসখানেক আনাই হয়নি!
– হলি ক্র্যাপ! এ কি তবে নিছক হ্যালুসিনেশন্? নাকি ইনোসেন্ট স্বপ্ন?
– ইনোসেন্ট? স্কুল পালানো বিচ্ছুরাও অমন এঁদোমার্কা স্বপ্ন দেখে না।
– স্বপ্নের আবার ক্লাস হয় নাকি?
– হয় বৈ কি!
– আর, স্বপ্নে হ্যালুসিনেশন্? সেটা পসিবল্?
– উঁ হুঁ! তা জানা নেই। তবে মাইন্ড পজিটিভ থাকলে স্বচ্ছন্দে সাফসুতরো স্বপ্ন দেখা যায়। আর, দিনরাত খাই-খাই করলে স্বপ্নেও আইসক্রিম, জলভরা, চকোলেট এইসমস্ত বস্তু দেখা দেবেন।
– ও, থ্যাঙ্কস্ আ লট্। চকোলেটের কথা তো মনেই ছিলো না। কালই এনেছিলাম। ফ্রিজে এখনও স্বমহিমায় উপবেশিত থাকা উচিত। আইসক্রিম, জলভরা না থাক্, চকোলেট ইজ্ টেস্টি এনাফ্ ফর্ মিডনাইট থ্রিল্।
– ওয়ান বাইট্ ফর মি টু!
– তুমিও?
– তোমার ‘হাফ্’ বলে কথা!
