Sweater

সোয়েটার

– চলবে?

– নো, থ্যাঙ্কস্! আই ডোন্ট স্মোক।

– আরে নিন্, নিন্। ঠকঠক করে কাঁপছেন তো! এখন আইডিয়ালিজম্-এ মারুন গুলি!

– আইডিয়ালিজম্ নয় মশাই! হ্যাবিচুয়েশন্।

– আর সোয়েটার? ওটাও কি হ্যাবিচুয়েশন্?

– কিছুটা। বাকিটা নেসেসিটি।

– হুঁ! এই বারো ডিগ্রি টেম্পারেচারে থ্রিল্ চান?

– যেমন?

– যেমন ধরুন, আপনার সোয়েটার আমি চুরি করলাম। আর আপনায় দু’পেগ ব্র্যান্ডি দিলাম।

– আমি খাঁটি ব্রাহ্মণ সন্তান, বুঝলেন? সিগ্রেট, মদ্যপান এসব কোনওদিন করিও নি এবং আই হেট দোজ পিপল্ হু ড্রিংক অর স্মোক। দ্যাটস্ অল।

– অর্থাৎ, হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ দেব, তবু মদ ছোঁব না?

– এক্স্যাক্টলি।

– সোয়েটার আর ব্যান্ডির পেগের মধ্যে ডিফারেন্স কি জানেন?

– কি? শুনি

– সোয়েটার কনটেইন্স অ্যান্ড ব্র্যান্ডি নিডস্ আ কনটেইনার। দ্যাটস্ অল। এক্সসেপ্ট ইট, দুটোর উপকারিতা প্রায় একই।

– তা হোক্, তবু ঐতিহ্য খোয়াচ্ছি না।

– হুঁ! টিপিক্যাল বঙ্গসন্তান! তা ঐতিহ্য শো অফ্ করানোর যোগ্যতা তো চাদরেরও রয়েছে। হঠাৎ সোয়েটার দিয়ে ঐতিহ্যের বড়াই করার এতো ঝোঁক?
ওটা তো বিলিতি আমদানি!

– চাদরের কোন ক্লাস নেই মশাই। এছাড়া মেইনটেইন করা খুব টাফ্। তুলনায়, সোয়েটার ইজ মোর কম্ফর্টেবল অ্যান্ড ওয়ার্ম। আর, চাদরের হেরিটেজ খুব উইক।

– বলেন কি? বঙ্কিমচন্দ্র থেকে বিদ্যাসাগর, ফেলুদা থেকে ব্যোমকেশ সকলেই চাদরকে প্রায়রিটি দেন।

– তখন সোয়েটার ছিলো না তাই!

– হাঃ হাঃ! ছিলো মশাই, ছিলো। বাঙালীরা পরতেন না। ওটিই ছিলো ঐতিহ্য।

– থামুন তো! আর ভাট বকে কাজ নেই। হেরিটেজ ইজ ইন সোয়েটার। অ্যান্ড, মোরওভার আমি ব্র্যান্ডি ছোঁব না, ছোঁব না।

– হাঃ হাঃ হাঃ! সোয়েটার, ব্র্যান্ডি দুটোই ফিরিঙ্গিদের আমদানি, বুঝলেন মশাই?